ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় চাপাতি ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নিকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লা থানাধীন পূর্ব দেলপাড়া এলাকার চানাচুর ফ্যাক্টরি সংলগ্ন নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম (৪১) ওই এলাকায় যায়গা কিনে বাড়ি করেছেন। তিনি ঢাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে জাহাঙ্গীর আলমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি ঘুমিয়ে পড়ার পর স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নি ঘরে থাকা একটি চাপাতি ও ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে। একই সঙ্গে দুই হাতের কবজির রগ কেটে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
ঘটনার পর স্ত্রী মুন্নি প্রতিবেশীদের জানালে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও একটি ছুরি জব্দ করা হয় এবং অভিযুক্ত স্ত্রীকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ফারজানা আক্তার মুন্নির এটি দ্বিতীয় সংসার। আগের সংসারে তার দুই সন্তান রয়েছে। বর্তমান সংসারে তাদের দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়াজনিত বিরোধের কারণে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপস) তারেক আল মেহেদী জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

