ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন তার বাবা। ঘটনার পর পরই ফারজানার স্বামী নাজমুল আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মামলায় তাকে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ফারজানার বাবা রফিকুল ইসলাম ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন। এতে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন- ফারজানার স্বামী নাজমুল আলম (৩০), আব্দুর রহিম (৫০), আফরোজা বেগম (৪৫), সায়মা আক্তার (২৫), রাসেল (৪২), সাইফুল আলম (৩৬) ও রোকেয়া বেগম (৬৮)। তাদের মধ্যে নাজমুল ফারজানার স্বামী, আফরোজা তার স্বামীর বোন, সায়মা ভাইয়ের স্ত্রী, রাসেল স্বামীর ভাই এবং রোকেয়া তার শাশুড়ি।
এজাহারে রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের নভেম্বরে পারিবারিকভাবে সাত লাখ টাকা কাবিনে নাজমুলের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। শুরুতে তারা কুমিল্লা শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পরে নাজমুল মুন্সিগঞ্জে চাকরি পেয়ে সেখানে বাসা নেন। ফারজানা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ছুটির সময়ে তিনি স্বামীর বাসায় যেতেন।
বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর মেয়ের জামাতাকে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহযোগিতা করেন তিনি। নাজমুল চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সহযোগিতা কমে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফারজানার কাছে যৌতুক দাবি করেন। এ নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে মামলা করা হয়েছিল। পরে সমঝোতার মাধ্যমে তারা আবার একসঙ্গে সংসার শুরু করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসে এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি পেয়ে ফতুল্লার ভুঁইগড় এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। গত ২০ অক্টোবর ফারজানা সেখানে যান। ঘটনার দিন বিকেলে নাজমুলের বোনের স্বামী বাদীর ছেলেকে ফোন করে আগের মামলার বিষয়ে জানতে চান। পরে রাত ৯টার দিকে রফিকুল ইসলামকে ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।
বাদীর দাবি, ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, আদালতে করা মামলা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এ সময় ফারজানাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফতুল্লার ভুঁইগড়ের কবরস্থান রোডে দেলোয়ারের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই কক্ষ থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চিরকুটে স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ফারজানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মুসুল্লি বাড়ির রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী নাজমুল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

