আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে লুটের স্বর্ণ, ডাকাতিতে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, স্বর্ণ গলানোর সরঞ্জাম ও একটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ আগষ্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার বিহারীপুর এলাকার শহিদুল খান (৪৬) এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার কাঁচপুর এলাকার সোনাপুরের কাউসার মল্লিক ওরফে হৃদয় (২৭)।
পুলিশ জানায়, গত ৮ আগস্ট ভোররাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা ২৫ মিনিটের মধ্যে ফতুল্লার ভুঁইগড় তালতলা সামছুল হক খান মসজিদ এলাকার বাসিন্দা মো. হান্নান হোসাইনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল বাড়ির গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের ভয় দেখায় এবং মারধর করে। পরে তারা বাড়ি থেকে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ৮ আগস্ট ফতুল্লা মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় মামলা করা হয়।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ডিবির একটি দল ঢাকার তুরাগ ও ডিএমপির বিভিন্ন থানা এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শহিদুল খান ও কাউসার মল্লিক ওরফে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া ১ ভরি ২ রতি স্বর্ণ, একটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং স্বর্ণ গলানোর বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা ডাকাত চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফতুল্লার ভুঁইগড়ের ওই বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় মোট ১৪ সদস্যের একটি দল অংশ নিয়েছিল।
নারায়ণগঞ্জ জেলাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও খুনসহ ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের সহযোগী অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া বাকি স্বর্ণ ও নগদ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ডাকাত চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

