বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

|

কার্তিক ৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচে মানবতার দস্তরখানা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:২৮, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচে মানবতার দস্তরখানা

মানবতার দস্তরখানা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচে চলছে ব্যতিক্রমী এক মানবিক উদ্যোগ। যেখানে সপ্তাহে তিন দিন বিনামূল্যে খাবার পাচ্ছেন অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ২০০ মানুষ। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে শাহবাজ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে ‘মানবতার দস্তরখানা’ নামের এই কার্যক্রম। ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে একবেলা খাবার তুলে দিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন সংগঠনটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা।

ব্যস্ততম ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচে খাবারের অপেক্ষায় ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ রিকশাচালক, কেউ দিনমজুর, কেউ গৃহকর্মী, আবার কেউ ভিক্ষুক কিংবা অসহায় পথচারী। এখানে নেই ধনী-গরিবের ভেদাভেদ। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে বসে খাচ্ছেন বিনামূল্যের খাবার। খাবার পেয়ে অনেকের মুখেই ফুটে উঠছে তৃপ্তির হাসি।

জানা যায়, প্রতি সপ্তাহের শনিবার, সোমবার ও বুধবার ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচে বসে এই মানবতার দস্তরখানা। প্রতিদিন প্রায় ২০০ মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করে শাহবাজ ফাউন্ডেশন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, রিকশাচালক, শ্রমজীবী, গৃহকর্মী ও অসহায় ব্যক্তিরা এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ছে, সেখানে সপ্তাহে তিন দিন বিনামূল্যে একবেলা খাবার পাওয়া তাঁদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সপ্তাহে মাত্র একদিন খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে এই মানবিক কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। পরে মানুষের ব্যাপক সাড়া ও চাহিদা বাড়তে থাকায় সপ্তাহে দুই দিন খাবার বিতরণ করা হয়। বর্তমানে সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো স্বেচ্ছাসেবীদের নিঃস্বার্থ অংশগ্রহণ। স্থানীয় কয়েকজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী কোনো ধরনের পারিশ্রমিক ছাড়াই খাবার পরিবেশন ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করছেন। ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।

খাবার খেতে আসা কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা প্রতি সপ্তাহে এই তিন দিনের অপেক্ষায় থাকি। এখানে বিনামূল্যে খাবার পাই। এতে আমাদের অনেক উপকার হয়। যাঁরা আমাদের খাওয়াচ্ছেন, তাঁদের জন্য মন থেকে দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাঁদের আরও বেশি মানুষকে খাওয়ানোর তৌফিক দেন।’

তাঁরা আরও জানান, প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসারের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে একবেলা খাবার পাওয়ায় কিছুটা হলেও আর্থিক চাপ কমে। এই কার্যক্রম প্রতিদিন চালু হলে আরও বেশি অসহায় মানুষ উপকৃত হবেন।

শাহবাজ ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোহাম্মদ ইয়ামিন মিয়া বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের মূল শাখা ঢাকায়। সেখানে শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে ছয় দিন বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করা হয়। রূপগঞ্জের ভুলতায় প্রথমে সপ্তাহে একদিন খাবার বিতরণ শুরু করি। পরে দুই দিন এবং বর্তমানে তিন দিন খাবার বিতরণ করছি। মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়া যায়।’
স্থানীয়দের মতে, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে এলে ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব। একই সঙ্গে সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।

ব্যস্ততম ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচে শাহবাজ ফাউন্ডেশনের এই দস্তরখানা এখন শুধু খাবার বিতরণের স্থান নয়, বরং অসহায় মানুষের কাছে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক আশ্রয়স্থল। এমন উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হলে উপকৃত হবেন বহু অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ।