রিয়া গোপের পিতা-মাতার সাথে সাক্ষাৎ করেন খোরশেদ
শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীতে চারদিকে যখন ঢাকের বাদ্য আর আনন্দের আমেজ, ঠিক তখনই এক বিষাদময় নীরবতা নেমে এসেছে শহীদ রিয়া গোপের ঘরে। ২৪ জুলাইয়ের জুলাই গণ-আন্দোলনের বর্বরতায় অকালে ঝরে যাওয়া কনিষ্ঠতম এই শহীদের শূন্যতা কাটিয়ে উঠতে পারেননি তার শোকসন্তপ্ত পিতামাতা। বিজয়া দশমীর বিসর্জনের এই দিনে উৎসবের আলো থেকে বহুদূরে থাকা সেই পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদ্য সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে শহীদ রিয়া গোপের বাসায় গিয়ে তার পিতা-মাতার সাথে সাক্ষাৎ করেন খোরশেদ। স্বজনহারা পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, আজকের এই দিনে আপনাদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা আমাদের জানা নেই। সারা দেশে যখন উৎসবের আমেজ, তখন আপনাদের ঘরে কেবলই বিসর্জনের বিষাদ। তবে রিয়ার এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই আমরা আজ এক নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা রিয়া ও আপনাদের এই অসামান্য ত্যাগ কখনো ভুলব না। রিয়া আমাদের হৃদয়ে চিরকাল জাগ্রত থাকবে, তার এই অম্লান আত্মবিসর্জন নতুন প্রজন্মের প্রেরণা হয়ে থাকবে।
সাক্ষাৎকালে তিনি রিয়া গোপের স্মৃতি রক্ষার্থে তার পরিবারের হাতে "পূজার সাজে রিয়া" শিরোনামে একটি বাঁধাই করা ফটোফ্রেম ও পূজার উপহার সামগ্রী তুলে দেন।
স্বৈরাচারী শাসনের নৃশংসতার কথা উল্লেখ করে খোরশেদ আরও বলেন, ছোট্ট রিয়া গোপ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের চরম বর্বরতা ও নির্মমতার এক জীবন্ত সাক্ষী। এই হায়নাদের হাত থেকে ছাত্র-জনতা তো দূরের কথা, ঘরের ছাদে থাকা নিষ্পাপ শিশু কিংবা গৃহিণীরাও রক্ষা পায়নি।
তিনি অবিলম্বে রিয়া গোপ হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও রায় দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানান।
গত ২৪ জুলাই জুলাই গণ-আন্দোলন চলাকালে নিজ বাড়ির ছাদে খেলা করার সময় গুলিতে বিদ্ধ হয়ে শহীদ হয় কনিষ্ঠতম বীর শহীদ রিয়া গোপ।

