বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

|

পৌষ ৩০ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সোনারগাঁয়ে শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৮:১৩, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৮:১৩, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

সোনারগাঁয়ে শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বিক্ষোভ মিছিল

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পৌরসভার দত্তপাড়া এলাকায় অবস্থিত পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিদ্যালয়টির শতাধিক শিক্ষার্থী।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষকের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।

বিক্ষোভ চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত, সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মহিবুল্লাহ এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শোনেন এবং তাদের দেওয়া স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

একই সঙ্গে তারা শিক্ষকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমানকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকেই দুই শিক্ষকের মধ্যে বিরোধ চলমান।

পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত তার পক্ষে রায় দেন এবং তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ফলে দু’জনই নিজেদের প্রধান শিক্ষক দাবি করে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, মূলত দুই প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্বে ইন্ধন দিচ্ছেন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা।

বিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তারা দুটি গ্রুপ তৈরি করেছেন। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মহিবুল্লাহ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং একটি আলাদা বিষয়। তবে শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করা সমীচীন নয়। আমরা বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ভবিষ্যতে যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।