পদযাত্রা
সোনারগাঁও উপজেলা গণসংহতি আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের আহ্বানে বারুদী থেকে মোগড়াপাড়া পর্যন্ত এক পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত পদযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত নারায়ণগঞ্জ–০৩ আসনের মাথাল মার্কার প্রার্থী, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপ্রধান এবং গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী সমন্বয়কারী জননেতা অঞ্জন দাস।
পদযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন গণসংহতি আন্দোলন সোনারগাঁও উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক মোমেন হাসান প্রান্ত এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব মোবাশ্বির হোসাইন।
পদযাত্রায় আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের নির্বাহী সমন্বয়কারী পপি রাণী সরকার, নারী সংহতি নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক নাজমা বেগম, গণসংহতি আন্দোলন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ সোহাগ, ১২ নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বাবু, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি নারায়ণগঞ্জ জেলার দপ্তর সম্পাদক রনি শেখ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ যুব ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সানজীদা ইসলাম ইলমা সহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
পদযাত্রা শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জননেতা অঞ্জন দাস বলেন,রাষ্ট্রকে আর দলীয় স্বার্থ ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট হলো জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের অব্যাহত ধ্বংস। এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে জনগণের সরাসরি মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা। সেই কারণেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া রাষ্ট্র রক্ষার প্রশ্ন।
তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক শক্তিগুলো বারবার নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করেছে। জনগণ ভোট দিতে গেলেও ভোটের ফল নির্ধারণ করে অন্যরা। এই অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশ একটি পূর্ণাঙ্গ স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। গণভোটে জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোট রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো বদলের পথ খুলে দেবে এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনে রূপান্তর করবে।
অঞ্জন দাস আরও বলেন, শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, নারী ও তরুণ সমাজের স্বার্থ উপেক্ষা করে কখনোই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণসংহতি আন্দোলন ক্ষমতার ভাগ চায় না, বরং জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে। এই আন্দোলনের লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।
তিনি বলেন, আজকের এই পদযাত্রা কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথ। ভয়, লোভ ও দমননীতি উপেক্ষা করে সচেতন সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই জনগণ তাদের অধিকার আদায় করবে। গণসংহতি আন্দোলন সেই লড়াইয়ে রাজপথে ছিল, আছে এবং থাকবে যতদিন না একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

