ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালট ভোটারদের সংখ্যা এবার নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত ভোটারের মোট সংখ্যা ২৪ হাজার ২৬০ জন। এর মধ্যে ২৪ হাজার ১৩৩ জন ভোটারের আবেদন ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। বাকি ১২৭ জনের আবেদন এখনো যাচাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য থেকে এসব জানা গেছে।
ইসি সূত্র জানায়, অনুমোদনপ্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৯ হাজার ২ জন এবং নারী ভোটার ৫ হাজার ২৫৮ জন। এই ভোটারদের বড় একটি অংশ প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিজ নিজ ভোটার এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী। ফলে ভোটের দিন কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
আসনভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন মোট ৩ হাজার ৫৩৭ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ হাজার ৭৭৫ জন এবং নারী ভোটার ৭৬২ জন। এ আসনে আবেদন অনুমোদন পেয়েছেন ৩ হাজার ৫২৬ জন ভোটার। এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ১১ জন।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৪ হাজার ৫০৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ৫৬৫ জন এবং নারী ভোটার ৯৪০ জন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে ৪ হাজার ৫০০ জন ভোটারের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। বাকি ৫ জনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পাঁচটি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ আসনে মোট নিবন্ধিত ভোটার ৬ হাজার ৬০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ হাজার ২৫৫ জন এবং নারী ভোটার ১ হাজার ৩৫৪ জন। ইসি তথ্য বলছে, এখানে ৬ হাজার ৫৮০ জন ভোটারের আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। এখনো ২৯ জন ভোটারের আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন ৪ হাজার ৭৪৩ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ৭৯৭ জন এবং নারী ভোটার ৯৪৬ জন। এ আসনে অনুমোদন পেয়েছেন ৪ হাজার ৭২২ জন ভোটার। অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ২১ জন।
এই আসনটির অতীত নির্বাচনী ইতিহাসও পোস্টাল ব্যালটের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চিত্রনায়িকা কবরী মাত্র ২ হাজার ৩৮৯ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির মোহাম্মদ শাহ আলম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন কম ব্যবধানের আসনে কয়েক হাজার পোস্টাল ব্যালট ভোট ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৪ হাজার ৮২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ৫৭৪ জন এবং নারী ভোটার ১ হাজার ২৪৭ জন। এ আসনে অনুমোদন পেয়েছেন ৪ হাজার ৮০৫ জন ভোটার। এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন ১৬ জন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত নির্বাচন অফিসার মোঃ রাকিবুজ্জামান (রেনু) বলেন, পোস্টাল ব্যালট একটি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি। যারা ভোটের দিন কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবেন না, তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। নিবন্ধিত ও অনুমোদিত সব ভোটারের ব্যালট যথাযথ প্রক্রিয়ায় গ্রহণ ও গণনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, যেসব আসনে ভোটের ব্যবধান কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইসি সংশ্লিষ্টদের মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলার কয়েকটি আসনে এবারের নির্বাচন হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক হাজার পোস্টাল ব্যালট ভোট শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের ফল নির্ধারণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেক ভোটার।

