শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

আশ্বিন ২ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

রূপগঞ্জে সক্রিয় ছাত্রলীগ, নিষ্ক্রিয় ছাত্রদল!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২১:১৩, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রূপগঞ্জে সক্রিয় ছাত্রলীগ, নিষ্ক্রিয় ছাত্রদল!

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও প্রকাশ্য তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। 

অন্যদিকে একই সময়ে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটাই নিষ্প্রভ বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের একটি অংশ। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকা, পদ-পদবি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকার মূল্যায়ন না পাওয়ার হতাশায় ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী রাজপথের কর্মসূচিতে আগ্রহ হারিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। এসব মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা স্বল্প সময়ের জন্য বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিয়ে দ্রুত সরে যাচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে রূপগঞ্জের ৩০০ ফিটসহ বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। এর বাইরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাতেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এমন ঝটিকা কর্মসূচি নজরে এসেছে। 

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সংকুচিত হলেও ছাত্রলীগের একটি অংশ এখনো বিচ্ছিন্নভাবে সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচির আলোচনা সামনে আসার পর এ ধরনের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে ছাত্রলীগের এই বিচ্ছিন্ন তৎপরতার বিপরীতে রূপগঞ্জে ছাত্রদলের নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ছে। দীর্ঘ সময় ধরে সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় মাঠপর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী হতাশ হয়ে পড়েছেন।

দলীয় সূত্রের দাবি, রূপগঞ্জে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কমিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো না থাকায় নেতৃত্বের একটি অংশ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত। ফলে নিয়মিত কর্মসূচিতে সক্রিয় হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগেও আলোচনা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করে কেন্দ্রের অনুমোদনের অপেক্ষায় রাখা হয়েছে বলে খবর চাউর হলেও কমিটি হয়নি।

রূপগঞ্জে ছাত্রদলের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় রাজপথে থাকা অনেক নেতাকর্মী প্রত্যাশিত সাংগঠনিক স্বীকৃতি বা পদ-পদবি না পাওয়ায় হতাশ হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে যারা মাঠে ছিলেন তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়াই স্বাভাবিক।

ফলে মাঠের চিত্রে একদিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিল, অন্যদিকে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অনিশ্চয়তা দুই বিপরীত চিত্রই রূপগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছাত্রলীগের তৎপরতা সংগঠনটির সাংগঠনিক শক্তির প্রকৃত চিত্র কি না, নাকি বিচ্ছিন্ন কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ড তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে ছাত্রদলের নীরবতা স্থায়ী নিষ্ক্রিয়তা, নাকি সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অপেক্ষায় থাকা সেটিও নির্ভর করছে আগামী দিনের কর্মসূচি ও কমিটি গঠনের ওপর।

ছাত্রদল নেতাকর্মীরা বলছেন, রূপগঞ্জে ছাত্রদলকে আবার সক্রিয় করতে হলে দ্রুত সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা, ত্যাগী ও মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম দৃশ্যমান করা প্রয়োজন। অন্যদিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যেকোনো তৎপরতার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।