ফাইল ছবি
সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা।
এবার জেলায় মোট ৩৩ হাজার ২৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ৫৬টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারির মধ্য দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২৭ হাজার ৮০৭ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বালক ১২ হাজার ৫৭৮ জন এবং বালিকা ১৫ হাজার ২২৯ জন। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (দাখিল) অধীনে ৩ হাজার ৩৮২ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থী।
উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদরে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৩৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্দরে অংশ নিচ্ছে ২ হাজার ৭৫৯ জন, সোনারগাঁয়ে ৪ হাজার ২৬০ জন, রূপগঞ্জে ৪ হাজার ৫০২ জন এবং আড়াইহাজারে ২ হাজার ৯৪৫ জন শিক্ষার্থী।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতে পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বা বিদ্যমান ক্যামেরাগুলো সচল রাখতে হবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে সিগন্যাল জ্যামারের কভারেজ রাখতে হবে, যাতে কোনো পরীক্ষার্থী মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে না পারে। পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কেন্দ্রে প্রবেশের আগে পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশির নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ বন্ধ করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের এসএসসি পরীক্ষা। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে এবং লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। লিখিত পরীক্ষা শেষে ৭ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কক্ষে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রবেশপত্র সঙ্গে রাখতে হবে এবং ওএমআর ফরমে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছি। আশা করছি, শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারবে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শিক্ষা বিভাগের সমন্বয়ে কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে শিক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্ন ও চাপমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

