ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর বাজার ব্যাংক কলোনি এলাকায় বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার লাগাতে গেলে স্থানীয় এলাকাবাসী বাধা প্রদান করে। এ সময় তারা বিদ্যুতের লোকজনকে মিটার না লাগানোর অনুরোধ করলেও তারা না মেনে মিটার লাগাতে গেলে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে প্রিপেইড মিটার লাগাতে আসা লোকজনকে ধাওয়া করে। ক্ষুব্ধ জনতা প্রিপেইড মিটার বাক্স থেকে বের করে ভাঙচুর করে। গত শনিবার (০১ আগস্ট) বিকেলে ব্যাংক কলোনি পাবনা পট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যুতের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা নিজেকে বিদ্যুৎ কর্মী পরিচয় না দিয়ে সাধারণ মানুষ পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাদের বিদ্যুৎ কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করলে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুতের মিটার ভাঙচুর করে।
আন্দোলনের সাথে যুক্ত এডভোাকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল জানান, শনিবার বিকেলে প্রিপেইড মিটার লাগাতে গেলে ব্যাংক কলোনী এলাকা থেকে আমাকে ফোন করে জানানো হয় বিদ্যুৎ কর্মীরা ব্যাংক কলোনী এলাকায় বিদ্যুতের মিটার স্থাপন করতে এসেছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরে আটকে রাখা লোকজনকে ছাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করি।
একই সাথে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ কর্মীরা গোপনে গোপনে বিভিন্ন এলাকায় যে মানুষকে বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে লাগানোর চেষ্টা করছে।
নারায়ণগঞ্জে গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রিপেইড মিটারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন স্থানীয়রা। প্রিপেইড মিটারের বিরোধিতা করে এক সপ্তাহ আগে কিল্লারপুল বিদ্যুৎ অফিসের সামনে মানববন্ধন করে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ গ্রাহকরা। এ সময় তারা বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশীষ সাথে দেখা করে স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং নারায়ণগঞ্জে প্রিপেইড মিটার না লাগানোর জন্য অনুরোধ করেন।
শনিবার একই দাবিতে নাগরিক কমিটির লোকজন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন এর কাছে প্রিপেইড মিটার যাতে নারায়ণগঞ্জের না লাগানো হয় এজন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার জন্য সংসদ সদস্যের কাছে স্মারকলিপির প্রদান করা হয়।

