ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনপুর একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতির বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন সমিতির সদস্যরা।
একই সঙ্গে দোকান বরাদ্দে অনিয়ম, অগ্রিম টাকা গ্রহণ, সদস্যদের হয়রানি ও সমিতি পরিচালনায় নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মদনপুর একতা সুপার মার্কেটের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন সমিতির উপদেষ্টা মাজহারুল ইসলাম হিরনসহ সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে মাজহারুল ইসলাম হিরন অভিযোগ করে বলেন, কাবিল মার্কেটের একটি দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে একজনের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়েছে। দোকানটির মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তবে ওই ব্যক্তি সমিতির সদস্য নন বলেও দাবি করেন তিনি।
হিরন বলেন, “১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি হলে কমিটির মেয়াদ যদি তিন বছর হয়, এরপর দোকানটি তাকে দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তখন তার এই টাকার কী হবে?”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মার্কেটের আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও দোকানের জন্য অগ্রিম টাকা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজনের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দোকানসংক্রান্ত কাগজপত্র সমিতির কার্যালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ মিথ্যা’ মার্কেট দখল, দোকান ভাঙচুর ও একটি দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন মাজহারুল ইসলাম হিরন। তিনি বলেন, তারা কোনো দোকান ভাঙচুর করেননি এবং কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি করেননি।
তিনি বলেন, “আপনারা মার্কেটের দোকানদারদের জিজ্ঞেস করেন, আমরা কোনো দোকানে গিয়ে ভাঙচুর করেছি কি না। গত সোমবারের সভাতেও আমরা ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের সমস্যায় না ফেলার কথা বলেছি। যারা ব্যবসা করছেন, তাদের ব্যবসা করার সুযোগ দিতে হবে।”
অভিযোগকারী ব্যক্তিরাই নিজেদের দোকানে তালা দিয়ে চলে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
‘প্রায় ১৭ বছরেও অনেকে দোকান বুঝে পাননি’
সমিতির বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে সুরুজ মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন সদস্যরা। হিরন বলেন, ২০২২ সালে এসব অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
এ ছাড়া সমিতির সদস্যদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও করেন তিনি।
হিরনের দাবি, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য গত সোমবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় প্রকৃত মালিকদের কাছে দোকান বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে পরে কয়েকজন দোকান বন্ধ করে চলে যান এবং তাদের পক্ষ থেকে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়। ওই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেন তিনি।
১০১ সদস্য নিয়ে নির্বাচন চায় সদস্যরা
সমিতির সদস্যদের পক্ষ থেকে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে মাজহারুল ইসলাম হিরন বলেন, “আমরা একতা মার্কেট বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্যরা সুরুজ মিয়ার জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চাই। যারা প্রকৃত মালিক, তাদের দোকান বুঝিয়ে দিতে হবে। বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে অনেকে দোকান বুঝে পাননি, অনেকে ভাড়া দিতে পারেননি। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই ১০১ জন সদস্যকে নিয়ে নির্বাচন করা হোক। আমরা নির্বাচন করার মালিক নই, ভোট দেওয়ার মালিক। নির্বাচন করানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আমরা চাই, সবাইকে নিয়ে সুস্থভাবে একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সময় নির্ধারণ করে নির্বাচন দেওয়া হোক।”
এ সময় মার্কেট পরিচালনা ও অর্থসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সদস্য আমিনুল হক, আব্দুর রহিম, মো. কালাম, আওলাদ, আব্দুল জলিল ও মো. আলিমুদ্দিনসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সমিতির ৭৯ জন সদস্য গণস্বাক্ষর করেন।

