শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

|

আশ্বিন ২২ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

রূপগঞ্জে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকটে ক্রেতারা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৭:৩৭, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রূপগঞ্জে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকটে ক্রেতারা

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বেড়েছে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম। একই সঙ্গে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে দেখা দিয়েছে সংকট। এতে একদিকে যেমন বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস না পাওয়ায় নিয়মিত ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ডিলাররা। সরবরাহ সংকটকে পুঁজি করে কিছু খুচরা ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রূপগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ও এলপিজি বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানির ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। কোম্পানি ভেদে প্রতিটি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৭৪০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে কয়েকদিন ধরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক দোকান ও ডিলারের কাছে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
ডিলারদের দাবি, তারা কোম্পানির কাছ থেকে নিয়মিত চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। ফলে দীর্ঘদিনের ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণ সিলিন্ডার আসায় অল্প সময়ের মধ্যেই তা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এতে বাজারে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম সংকটের মতো পরিস্থিতি।
অন্যদিকে, সরবরাহ কমে যাওয়ার সুযোগে কিছু খুচরা ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। কোথাও কোথাও গ্যাস পাওয়া গেলেও ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে রান্নার প্রয়োজন মেটাতে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বিশেষ করে ফ্ল্যাটবাড়িতে বসবাসকারী পরিবারগুলো পড়েছেন বেশি বিপাকে। রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল এসব পরিবারের অনেকেই সময়মতো সিলিন্ডার না পাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন। গ্যাসের সংকটের কারণে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের মাসিক ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ভোক্তারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এমনিতেই বেশি। এর মধ্যে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়তি নেওয়া হলে সংসারের খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় অনেক সময় নির্ধারিত দামের বিষয়টি বিবেচনা না করেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে এলপিজি গ্যাসের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি বন্ধে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আল সোহান জানান, গত ৪ অক্টোবর এলপিজি গ্যাসের একটি নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় জরিমানা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করা গেলে ভোক্তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে ডিলার পর্যায়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং খুচরা বাজারে নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি বন্ধ করা জরুরি।
ভুক্তভোগী ক্রেতারা দ্রুত এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ স্বাভাবিক করা, নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করা এবং অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।