মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

|

আষাঢ় ৩১ ১৪৩১

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

না.গঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দলের একাংশের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২২:৩০, ২২ আগস্ট ২০২৩

না.গঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দলের একাংশের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা

ফাইল ছবি

চূড়ান্ত আন্দোলনের লক্ষ্যে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আন্দোলন সফল করতে অঙ্গ সংগঠনগুলোকেও প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। এমন সময় নারায়ণগঞ্জে নিষ্ক্রিয়তায় ভুগছে অন্যতম প্রধান অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের একাংশ। মূলত জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব রহমান ও তার অনুসারীদের নিষ্ক্রিয়তা, কর্মসূচি পালনে অনীহা এর মূল কারণ। 

ঢাকার অত্যন্ত কাছে হওয়ায় আন্দোলন সংগ্রামে সবসময়ই নারায়ণগঞ্জের গুরুত্ব বেশি। বিগত দুটি বড় কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি যখন নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেষ্টা করেছে, একই সময় মাহাবুবের বিতর্কিত অবস্থান দেখা গেছে।

২৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এর আগের দিন বিএনপির মহাসমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পরেও অবস্থান কর্মসূচিতে দেখা যায়নি মাহাবুব ও তার অনুসারীদের। 

নেতাকর্মীরা জানান, এদিন সংঘর্ষের আশংকা থেকে নেতাকর্মীদের কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগেই নিষেধ করে দেন মাহাবুব। সাধারণ সম্পাদকের এমন বার্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি থাকার পরেও এদিন আশানুরূপ জনসমাগম ঘটাতে পারেনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

গত ১৯ আগষ্ট কাঁচপুরে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে ঘিরে পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিন পদযাত্রায় অংশ নিতে মাহাবুব ও তার কিছু অনুসারীরা উপস্থিত হলেও ছবি তুলে সংঘর্ষের পরপরই মহাসড়ক থেকে সটকে পড়েন মাহাবুব। নিজ অনুসারীদের নিয়ে পুলিশের কাছে অনুনয় বিনয় করে সিনহা গার্মেন্টসের গলিতে ভাষণ দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন তারা। অন্যদিকে একই সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম, সহ সহভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন সালু তখন সংঘর্ষের সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে ছিলেন।

উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে আসলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আগেই মাহাবুব পুলিশের এক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সিনহা গার্মেন্টসের গলিতে ঢুকে পড়েন। সেখানে পাঁচ মিনিট সময় চেয়ে নিয়ে বক্তব্য দিয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে চলে যান তিনি।

মাহাবুবের এমন পলায়নপর মানসিকতায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গেছে। দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে যেকোন সময় লাঞ্ছিত হতে পারেন মাহাবুব এমনটাও বলছেন নেতাকর্মীদের কেউ কেউ। আবার নেতাকর্মীরা আন্দোলনে এমন নিষ্ক্রিয় থাকায় মাহবুবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেন।

এর আগে শহরের দেওভোগ এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হয়েছিলেন মাহাবুব। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে সেদিন রক্ষা পান মাহাবুব।