রোববার, ০৩ মার্চ ২০২৪

|

ফাল্গুন ১৯ ১৪৩০

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র নিলেন গিয়াসউদ্দিন ও তার ছেলে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ০১:০৯, ২৭ নভেম্বর ২০২৩

শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র নিলেন গিয়াসউদ্দিন ও তার ছেলে

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ ৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপি নেতা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। 

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি ছাড়াও স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তার ছেলে মোহাম্মদ কায়সার। এদিকে গিয়াসউদ্দিন স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় শামীম ওসমান শিবিরে চিন্তার ভাজ তৈরী হয়েছে। মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। 

রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে জেলা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তারা।  

আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী শামীম ওসমান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ১৯৯৬ সালে, ২০১৩ সালে এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে এ আসনে এমপি হয়েছিলেন চিত্রনায়িকা সারাহ্ বেগম কবরী। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচন করেন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। তিনি সেসময় কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ওই নির্বাচনে গিয়াসউদ্দিন শামীম ওসমানকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। 

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন স্বতন্ত্র থেকে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও তার ছোট ছেলে মোহাম্মদ কায়সার। এর আগে এ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়নপত্র নেন বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন রাশেদুল ইসলাম। 

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তার ছেলে মোহাম্মদ কায়সারের মুঠোফোনে কয়েক দফা রিং হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ জানান, গিয়াস উদ্দিন ও তার ছেলের পক্ষে প্রতিনিধি এসে স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র নিয়ে গেছেন। এ নিয়ে এ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় থেকে শামীম ওসমান ও স্বতন্ত্র থেকে তিনজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ নিয়ে মোট চারজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ জানান, দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি আদৌ স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নত্র নিয়েছেন কীনা সেটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তার পক্ষে কেউ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মনোনয়নপত্র তুলে নিয়েছেন কী না-সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, যদি তিনি দলের নির্দেশনার বাইরে মনোনয়নপত্র তুলে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্র।

এ ব্যাপারে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, সে (মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন) রাজনীতি করে সে মনোনয়নপত্র নিতেই পারেন। আমরাও চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক। তাদের মনোনয়নপত্র নেওয়ার বিষয়টি আমরা আমলে নিচ্ছি না। আমাদের প্রার্থী (শামীম ওসমান) দাঁড়িয়েছে, দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে-আমরা তাকে নিয়েই আছি। 

২০০১ সালের নির্বাচনে শামীম ওসমানকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পরাজিত করা হয়েছিল বলে দাবি করে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ভোটে যে কেউ অংশ নিতে পারে। সেটি নিয়ে আমাদের কোন মাথা ব্যথা নেই।

এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তার ফেসবুকে পোস্টে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি স্বতন্ত্র থেকে কোন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। সরকারী দলের কতিপয় গোষ্ঠীর যোগসাজশে তা ছড়ানো হচ্ছে। তিনি সবাইকে সর্তক থাকার আহবান জানান। 

ওই ফেসবুক পোস্টে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একদফা আন্দোলনে আছি। সরকারের পদত্যাগ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ জানান, জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি ও ভোটার তালিকা সিডির টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দিয়ে আমাদের এখান থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন তার প্রতিনিধি। যিনি মনোনয়নপত্র নিয়েছেন তার নাম ঠিকানা আমাদের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, তার অভিযোগের বিষয় তিনিই ভালো বলতে পারবেন।