ফাইল ছবি
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন টেইলার্সে এখন চলছে ব্যস্ততম সময়। ঈদের আর অল্প কয়েকদিন বাকি থাকায় পোশাক তৈরি ও ডেলিভারি দিতে দিন-রাত কাজ করছেন দর্জি ও কারিগররা। সময়মতো অর্ডার দেওয়া কাপড় বুঝিয়ে দিতে অনেক দোকানেই গভীর রাত পর্যন্ত চলছে সেলাই কাজ।
শহরের চাষাঢ়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক, কালিরবাজার, নিতাইগঞ্জ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার টেইলার্সগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কারিগররা মেশিনের সামনে বসে একনাগাড়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কোথাও পাঞ্জাবি, কোথাও থ্রি-পিস আবার কোথাও শিশুদের পোশাক তৈরির কাজ চলছে দ্রুতগতিতে।
দোকান মালিকরা জানান, ঈদের আগে শেষ কয়েকদিনই তাদের জন্য সবচেয়ে চাপের সময়। অনেকেই শেষ মুহূর্তে কাপড় দিয়ে দ্রুত তৈরি করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু আগের অর্ডারের চাপ থাকায় সব অর্ডার নেওয়াও সম্ভব হয় না।
চাষাঢ়া এলাকার ফ্যাশন টেইলার্সের মালিক জসিম বলেন, ঈদের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই অর্ডারের চাপ বেড়ে যায়। এখন প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। সময়মতো কাপড় ডেলিভারি দেওয়াটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
দোকানটির কারিগর মশিউর রহমান জানান, এই সময়টাতে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ খুব কম থাকে। সকাল থেকে শুরু করে অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। তবেই সব অর্ডার শেষ করা সম্ভব হয়।
অনেক টেইলার্সে অতিরিক্ত কারিগরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবুও অর্ডারের চাপ এত বেশি যে অনেক দোকান নতুন করে কাপড় নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
ক্রেতারাও সময়মতো পোশাক পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। অনেকেই ঈদের এক-দুই দিন আগে কাপড় নেওয়ার জন্য টেইলার্সে এসে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
প্রতি বছর ঈদকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের টেইলার্সগুলোতে এমন ব্যস্ততা দেখা যায়। শেষ সময়ে নিরলস পরিশ্রম করে কারিগররা চেষ্টা করছেন সবার পোশাক সময়মতো হাতে তুলে দিতে, যাতে ঈদের আনন্দে কোনো ঘাটতি না থাকে।

