ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েমকে নিয়ে এলাকায় ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভুলতা ও গাউছিয়া এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এখন মুখে মুখে।
৫ আগস্ট পরবর্তী 'শিল্প সাম্রাজ্য' ও চাঁদাবাজি
অভিযোগ উঠেছে, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ভুলতা ও গাউছিয়া এলাকার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে সায়েমের হাতে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি থেকে 'ব্যবসার' নামে প্রতি মাসে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। মূলত উপজেলার প্রতিটি ব্যবসায়িক সেক্টরেই এখন তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
নিজস্ব বলয় ও অবহেলিত তৃণমূল
সায়েমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, তিনি দলের দুর্দিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে কেবল তার নিজস্ব কিছু অনুসারীদের দিয়ে এই 'সাম্রাজ্য' পরিচালনা করছেন। বিপুল পরিমাণ আর্থিক সুবিধা আসলেও সাধারণ ও অবহেলিত নেতাকর্মীরা এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না। আর্থিক বিষয় নিজেই দেখশোন করেন তিনি। ফলে রাজপথের পরীক্ষিত কর্মীদের মধ্যে দলের ওপর তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা জন্মাচ্ছে, যা স্থানীয় বিএনপিতে বিভক্তির সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১/১১-এর বিতর্ক ও রাজনৈতিক 'পল্টি'
সায়েমের বিতর্কিত অধ্যায়টি শুরু হয় বিগত ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে, যখন নরসিংদী এলাকায় তার বিরুদ্ধে চুরির একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছিল। পরবর্তীতে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি থাকাকালীন তিনি বারবার রাজনৈতিক বলয় পরিবর্তন বা 'পল্টি' নিয়ে নিজের আখের গুছিয়েছেন বলে তৃণমূলের অভিযোগ।
কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক এই সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে পদায়নের বা 'কমিটি বাণিজ্যের' অভিযোগও দীর্ঘদিনের। ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের পদে বসানো এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়াকে তিনি অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন বলে দাবি করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। সংগঠনটির অন্য কোন কমিটি এরকম নেতৃত্ব দ্বারা বাণিজ্যের শিকার হননি।

