বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

|

শ্রাবণ ২৬ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নাসিকে যুক্ত হতে চায় ফতুল্লা-কুতুবপুরসহ ৫ ইউনিয়ন, গণশুনানিতে পুরো এলাকা অন্তর্ভুক্তির দাবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৯:২১, ১১ আগস্ট ২০২৬

নাসিকে যুক্ত হতে চায় ফতুল্লা-কুতুবপুরসহ ৫ ইউনিয়ন, গণশুনানিতে পুরো এলাকা অন্তর্ভুক্তির দাবি

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণশুনানি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সীমানা পুনর্নির্ধারণে ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর, কাশীপুর ও গোগনগর ইউনিয়নের পুরো অংশ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। সিটি করপোরেশনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের গণশুনানিতে অংশ নিয়ে তারা নিজেদের এলাকার বাস্তবতা, অবকাঠামো ও শ্রেণিগত অবস্থান তুলে ধরে নাসিকে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে মত দেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

গণশুনানিতে ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর, কাশীপুর ও গোগনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা নিজেদের এলাকার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে সিটি করপোরেশনের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেন।

স্থানীয়দের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় পাঁচ ইউনিয়নের আংশিক নয়, পুরো এলাকা নাসিকের আওতায় আনার দাবি। তাদের ভাষ্য, এলাকার বর্তমান বাস্তবতা, শ্রেণি ও নগরকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা বিবেচনায় নিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হলে পুরো ইউনিয়নকে একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

গণশুনানিতে স্থানীয়দের বক্তব্য শোনার পর জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, শুধু মানুষের দাবি নয়, আইন ও বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিয়ে সীমানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, জনগণের মতামত থেকে কোন কোন এলাকা সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার উপযুক্ত—সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাস্তব অবস্থা যাচাই করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না, যাতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য এলাকা বাদ পড়ে যায় কিংবা উপযুক্ত নয় এমন এলাকা অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। বাস্তব অবস্থা ও ব্যবহারিক দিক বিবেচনা করেই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে। সরেজমিন পরিদর্শনের সময় স্থানীয়দের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের দাবি, এলাকার বাস্তব অবস্থা এবং ন্যায়সংগত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।

গণশুনানিতে জেলা প্রশাসকের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক নিলুফা ইয়াসমিন, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন, ফতুল্লা থানা বিএনপির সহসভাপতি মো. শহিদুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।