প্রতীকী ছবি
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে সাম্প্রতিক ঘটনার জেরে বিএনপির নারায়ণগঞ্জ মহানগরের দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মহানগর বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক নিয়মনীতি অমান্যের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান ও ১৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাতকে এ নোটিশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি কারণ দর্শানোর নোটিশে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে জবাব সন্তোষজনক না হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে গত ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলায় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কারণ দর্শানোর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহানগর বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, ওইদিন দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের কক্ষে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান প্রবেশ করলে রিফাত ও আনোয়ার প্রধানসহ কয়েকজন আইনজীবী তাকে অশালীন ভাষায় হেয় ও হেনস্তা করেন। একপর্যায়ে তাদের আচরণ মারমুখী হয়ে ওঠে বলেও নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পরে সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা এবং তিনি ক্ষমা চেয়ে সেখান থেকে চলে গেছেন এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে আনোয়ার প্রধানের বিরুদ্ধে। মহানগর বিএনপির নোটিশে এ বক্তব্যকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করা হয়েছে। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু সংশ্লিষ্টদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু নোটিশপ্রাপ্ত দুই নেতা ওই নির্দেশনা পালন করেননি বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া দুই নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকা, দলের ‘চেইন অব কমান্ড’ না মানা এবং কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
কারণ দর্শানোর নোটিশে নারায়ণগঞ্জ আদালত অঙ্গনে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে ঘিরে সৃষ্ট বিরোধের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। নোটিশে দাবি করা হয়, গত ২৫ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সুমন মিয়াকে স্পেশাল পিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, সরকারি চেম্বার তালাবদ্ধ রাখা এবং তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড করা হয়েছে।
মহানগর বিএনপির নোটিশে এসব কর্মকাণ্ডকে দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক নীতির পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালত অঙ্গনে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাতকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, ৬ অক্টোবরের ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত থেকে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানের কথিত দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিয়েছেন এবং এতে তিনি নিজেও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।
অন্যদিকে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানকে দেওয়া নোটিশে বিশেষভাবে তার দেওয়া বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়েছে, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং দলীয় ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
দুটি নোটিশেই বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্টদের মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের কাছে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে হবে। অন্যথায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে।
নোটিশের অনুলিপি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদককেও দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপু।

