শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

|

আশ্বিন ২৪ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী কাউসার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১২:৩৩, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী কাউসার

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পঞ্চমীঘাট-কেউঢালা প্রধান সড়কের কাঁচহরদী অংশের প্রায় ১.৫ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে চরম বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল।

জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় প্রতিদিন যাতায়াতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের পোহাতে হচ্ছিল চরম ভোগান্তি। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নিত, প্রায়শই ঘটত ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তায় যাতায়াতকারী হাজারো মানুষের কষ্টের সুরাহা মেলেনি কোনো দিক থেকেই। অবশেষে সাধারণ মানুষের সেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।

​স্থানীয় জনগণের প্রানের দাবি ও যাতায়াতের সীমাহীন কষ্ট লাঘবে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের রাজনৈতিক সচিব ও জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় শুক্রবার(৯ সেপ্টেম্বর)  
সড়কটির ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামতের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সাদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক কাউসার আহমেদ 

​এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এই ১.৫ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করতে আনুমানিক ২ থেকে ২.৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। সড়কটির এই জরুরি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছেন সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আসন্ন সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী মো. কাউসার আহমেদ।

শুক্রবার সকালে কাজহরদী এলাকায় সড়ক সংস্কারের শুভ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শত শত স্থানীয় বাসিন্দা ও তরুণ সমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে কাউসারকে সাথে নিয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজে অংশ নেন।

​সড়কটির মেরামত কাজ শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, পথচারী ও গাড়িচালকেরা।

​স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আনন্দ প্রকাশ করে স্থানীয় এক একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিন হাসান বলে, "আমাদের প্রতিদিন এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে পঞ্চমীঘাট বাজারে ও স্কুলে যেতে হয়। বর্ষাকালে রাস্তায় কাদা-পানি জমে ড্রেস ও বইখাতা নষ্ট হয়ে যেত, অনেক সময় রিকশা উল্টে সহপাঠীরা আহতও হয়েছে। আজকে রাস্তাটি ঠিক হতে দেখে আমাদের খুব ভালো লাগছে। এখন থেকে আমরা নিরাপদে ও সময়মতো স্কুল-কলেজে যেতে পারব। চেয়ারম্যান প্রার্থী কাউসার আঙ্কেলের এই উদ্যোগ আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের অনেক বড় উপকার করল।

​একই অনুভূতি প্রকাশ করে স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলে, ভোরবেলা ও সন্ধ্যায় এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকত। কাউসার ভাই নিজের পকেটের টাকা দিয়ে রাস্তাটি ঠিক করে দেওয়ায় আমরা উনার কাছে সত্যিই কৃতজ্ঞ।

​নিয়মিত এই পথে যাতায়াতকারী প্রবীণ পথচারী আব্দুল জব্বার (৫৮) বলেন, ভাঙা রাস্তার কারণে এতদিন হেঁটে চলতেও ভয় হতো। বয়স্ক মানুষ বা রোগীদের এই রাস্তায় নেওয়া মানেই জীবন হাতে নেওয়া। কাউসার ভাই আজ নিজ খরচে এই কষ্টের ইতি টানলেন। এমন মানবিক মানুষকে আল্লাহ সুখে রাখুন।

​অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে গাড়ি চালিয়ে আসা স্থানীয় এক ইজিবাইক ও অটোচালক মো. রফিক (৩৫) স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, ভাঙা রাস্তার লিগা কিছুদিন পরপরই আমাদের অটোর পার্টস ভাইঙা যাইতো। সারাদিন যা কামাই করতাম, তার বড় অংশই গ্যালে যেতো গাড়ি ঠিক করতে। কাউসার ভাই রাস্তাটা ঠিক কইরা দেওয়ার কারণে এখন থাইকা নিরাপদে গাড়ি চালাইয়া দুইটা টাকা বেশি ঘরে নিয়া যাইতে পারমু। উনি নির্বাচনের আগেই জনগণের জন্য যা করলেন, তা আমরা সারাজীবন মনে রাখব।

​নিজের পকেটের টাকা খরচ করে জনগণের এমন মৌলিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসায় এলাকা জুড়ে এখন হাজী মো. কাউসারের প্রশংসার জোয়ার বইছে। বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই অনন্য ও মানবিক দৃষ্টান্ত সাদিপুর ইউনিয়নের আপামর জনসাধারণের মনে এক গভীর আস্থা ও ভালোবাসার জায়গা তৈরি করেছে।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী মো. কাউসার বলেন, জনগণের সেবাই আমার রাজনীতির মূল পথ ও লক্ষ্য। কাজহরদী অংশের এই রাস্তাটির জন্য প্রতিদিন আমার এলাকার ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ হাজারো মানুষ কষ্ট পাচ্ছিলেন, যা আমি আর চোখে দেখে সহ্য করতে পারছিলাম না। মাননীয় এমপি মহোদয়ের সচিবের চমৎকার দিকনির্দেশনা এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে আমি নিজ খরচে কাজটা শুরু করেছি। পদে থাকি বা না থাকি, ভবিষ্যতেও সাদিপুর ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের যেকোনো সুখে-দুঃখ ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে আমি এভাবেই নিজেকে উজার করে পাশে রাখব।