ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্র্ধষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোর চক্রের এক সদস্য জানালার গ্রিল গলে নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা ও ৩টি স্মার্টফোন চুরি করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেই চুরির টাকা ভাগাভাগি বা আধিপত্য নিয়ে আরেক কিশোর অপরাধী চোরকে মারধর করে সমস্ত টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাত আনুমানিক ১:৩০ ঘটিকায় বন্দর কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে ব্যবসায়ী মো. রাসেল মাহমুদের (৩০) বসতবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। রাসেল মাহমুদ বন্দর কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকার মো. নুরুল আমিন মোল্লার ছেলে।
লিখিত অভিযোগে ব্যবসায়ী রাসেল মাহমুদ জানান, ঘটনার রাতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। এই সুযোগে বন্দর দিঘীরপাড় এলাকার আমানের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. রেজাউলের ছেলে মো. সাগর (১৭) নামের এক কিশোর জানালার পাশ থেকে রাসেল মাহমুদের ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ভর্তি একটি ব্যাগ ও ৩টি দামি স্মার্টফোন চুরি করে চম্পট দেয়। পরে টাকা বের করে খালি ব্যাগটি পাশের বাড়ির ছাদে ফেলে যায় সাগর। সকালে চুরির বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ চেক করলে সাগরের চুরির দৃশ্য স্পষ্ট ধরা পড়ে।
ঘটনায় নতুন মোড় নেয় যখন জানা যায়, চুরির পরপরই চিতাশাল এলাকার কুদ্দুস প্রধানের ছেলে মো. সোহান প্রধান (২০) নামের আরেক যুবক বিষয়টি জানতে পেরে ১নং অভিযুক্ত সাগরকে মারধর করে চুরিকৃত সাড়ে ৪ লাখ টাকা ও ফোনগুলো জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা জানতে পেরে সোহান প্রধানের বাড়িতে যোগাযোগ করলে সোহান উল্টো তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে জানিয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রাসেল মাহমুদ বলেন, "অভিযুক্তরা এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। এই ঘটনায় আমি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও আমার টাকা উদ্ধারের দাবি জানাই।"
এই বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তের ভিত্তিতে অপরাধীদের আটক এবং চুরিকৃত টাকা ও মোবাইল উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

