বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

|

ভাদ্র ৪ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

২০ কোটি টাকার সড়ক তিন বছরেই বেহাল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:০৮, ২০ আগস্ট ২০২৬

২০ কোটি টাকার সড়ক তিন বছরেই বেহাল

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রায় ২০ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয়ে নির্মিত আড়াই কিলোমিটার সড়ক তিন বছর না যেতেই ধ্বসে পড়েছে। অতি নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বেহাল এ সড়কে যানবাহন চলাচল একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্ত ও ঢালাই ভেঙে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। আর এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিকল হয়ে পড়ছে যানবাহন। এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে যেতে পারছে না। উপজেলা এলজিইডি ও তারাবো পৌরসভা যৌথ বরাদ্দে নির্মাণ হওয়া সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যে ধসে পড়ায় তদন্ত করে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

তবে, উপজেলা প্রকৌশলী ও তারাবো পৌর প্রশাসক দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি মেরামত করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

রুপগঞ্জ উপজেলার রুপসি কাঞ্চন সড়কের গন্ধর্বপুর বড় বাড়ি হতে কর্ণগোপ ঢাকা সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে ছোট বড় বেশ কিছু শিল্পকল কারখানা গড়ে ওঠে।

আর এই আড়াই কিলোমিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে তারাবো পৌরসভা থেকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সড়কের জন্য ২০১৯-২০ অর্থ বছরে উপজেলায় এলজিইডি থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় দুই কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থ বছরে উপজেলা এলজিইডি থেকে আরো ৬ কোটি ৯২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই বছর তাড়াবো পৌরসভা থেকেও প্রায় ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

চার দফায় প্রায় বিশ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে উপজেলা এলজিইডি ও তারাবো পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে গন্ধর্বপুর বড় বাড়ি হতে কর্ণগোপ পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার ২৪ ফুট প্রশস্ত ও প্রায় আড়াই কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই সড়ক নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাত্র আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজে ২০ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয় এটা অবিশ্বাস্য। এছাড়া আরসিসি ঢালাই সড়ক হওয়া সত্ত্বেও তিন বছর যেতে না যেতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছে। কোন কোন জায়গায় বড় বড় গর্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে পুকুরের ঢালে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে রড বের হয়ে ঢালাই ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেছে। এক কথায় সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে ভাঙ্গা সড়কে অচল হয়ে পড়ছে। কোন কোন স্থানে গাড়ি উল্টে যাচ্ছে। আবার কোন কোন স্থানে গর্তে চাকা পড়ে গাড়ি বিকল হয়ে পড়ছে। এছাড়া স্কুল কলেজ ও হাটবাজারে যেতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। এ যেন ভোগান্তির শেষ নেই।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও গাড়ি চালক জানান, গন্ধবপুর  হতে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত সড়কটি বড় বড় গর্ত হয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। রড বের হয়ে চাকা ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে চালকসহ পথচারীরা । দ্রুত সংস্কারের দাবি সকলের। 

তারাবো পৌর সহকারি প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, গন্দপুর হইতে ঢাকা সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত রাস্তাটি এলজিডির আইটি ভুক্ত সড়ক হলেও কিছু অংশ পৌরসভা থেকে করা হয়।পৌরসভার নির্মাণ ব্যয়ের অর্থের কথা বলতে অনিয়া প্রকাশ করে প্রকৌশলী জাকির হোসেন। 

রুপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, জিরো থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত জি ডিভি ফোর প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সম্পন্ন করা হয়। কিছু অংশ পৌরসভা ও করেছে। যেহেতু পৌরসভার ভেতরে পড়েছে বাকিটা পৌরসভা থেকে করা হবে। 

তারক পৌর প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, গন্ধপুর থেকে রাস্তাটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। তারাবো পৌরসভার ভিতরে পড়লেও এখন ঐরকম ফান্ড নেই যা দিয়ে রাস্তাটির সংস্কার কাজ হবে।  তাই এলজিইডি'র নিকট লিখিত অনুরোধ করব অফিশিয়ালি যেন রাস্তার কাজটি শুরু করে।

সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে তোলাসহ এ সড়ক নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।