মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

|

ফাল্গুন ১১ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

​এক গণমাধ্যমকর্মীর চোখে তারুণ্যের দীপ্তি ও কাজের গতি

ব্যস্ত থেকেও জনতার জননেতা, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর সাড়ে ৪ ঘন্টা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১২:৩১, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ব্যস্ত থেকেও জনতার জননেতা, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর সাড়ে ৪ ঘন্টা

ফাইল ছবি

​গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ভূঁইয়া পরিবারের সন্তান এবং বিএনপি নেতা ও শিল্পগ্রুপ গাউছিয়া কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে জনসেবা আর আগামীর রূপগঞ্জ বিনির্মাণের পরিকল্পনায়। 

গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সাড়ে ৪ ঘন্টা এই নবনির্বাচিত এমপির পাশে থেকে তার কার্যক্রম দেখেছেন একজন গণমাধ্যমকর্মী।

​সকাল ১১:০০ – প্রশাসনিক সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

​দিনের শুরুতেই দিপু ভূঁইয়া জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবিরের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে নিছক সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং উঠে আসে রূপগঞ্জের মানুষের নানা সমস্যার কথা। সম্মিলিতভাবে কীভাবে উপজেলার উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। প্রশাসনের সাথে তার এই সমন্বয় প্রমাণ করে, তিনি কেবল কথার রাজনীতি নয়, বরং কার্যকর সমাধানে বিশ্বাসী।

​দুপুর ১২:০০ – ব্যবসায়ীদের নিয়ে মহতী উদ্যোগ

​নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হিসেবে জেলার ৩৮টি ব্যবসায়িক সংগঠনের সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন তিনি। চলছে রমজান মাস। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শহরের যানজট নিরসনে ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন তিনি। ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজি রোধ ও অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির অভিযোগ জানাতে একটি স্পেশাল হটলাইন চালু করার ঘোষণা দেন দিপু, যা উপস্থিত সকলের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

​গণমানুষের সাথে নিরন্তর সংযোগ-

​বৈঠকের ফাঁকেও তার ফোনটি ছিল সচল। রূপগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ফোন ধরছেন, সমস্যার কথা শুনছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করছেন। এর ফাঁকে হাসিমুখে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলা এবং তাদের সাথে ছবি তোলার আবদার মেটানো—সব মিলিয়ে একজন আধুনিক ও জনবান্ধব নেতার পূর্ণ প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে তার মাঝে।

​বিকেল ৩:০০ – তৃণমূল ও এটিএম কামাল পরিবারের পাশে

​চেম্বারের কার্যক্রম শেষে তিনি ছুটে যান মিশনপাড়া এলাকায় মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের বাসভবনে। সেখানে একটি দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে সময় কাটান। দীর্ঘ সময়ের কর্মব্যস্ততা থাকলেও তার চেহারায় ক্লান্তির লেশমাত্র ছিল না, বরং সাধারণ মানুষের ভিড় দেখে তিনি আরও উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। 

বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকার একটি অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে বিদায় নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত তিনি মানুষের পাশে ছিলেন প্রাণবন্ত।

​পেছনের গল্প: রাজপথ থেকে সংসদ

​রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর এই বিজয় হুট করে আসা কোনো সাফল্য নয়।

​আন্দোলন ও সংগ্রাম: বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে তিনি গত এক দশকে রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন আপোষহীন। মামলা-হামলা উপেক্ষা করে তৃণমূল কর্মীদের আগলে রেখেছেন তিনি।

​গণসংযোগ: নির্বাচনের আগে রূপগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়নে, পাড়া-মহল্লায় তার চষে বেড়ানো এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়াই তাকে 'জননেতা'র আসনে বসিয়েছে।

​ঐতিহ্য ও যোগ্যতা: একজন রাজপথের নেতা, সফল ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট শিল্পপতি হিসেবে তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও পারিবারিক ঐতিহ্য রূপগঞ্জের মানুষের কাছে এক বড় ভরসার নাম।

একজন গণমাধ্যমকর্মীর পর্যবেক্ষণে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু কেবল একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন, বরং তিনি একাধারে তৃণমূলের প্রাণভোমরা রাজনীতিবিদ, একজন দক্ষ প্রশাসক, সফল ব্যবসায়ী নেতা এবং তারুণ্যের প্রতীক। রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, তার এই "তীব্র গতি" আগামী পাঁচ বছর উপজেলার উন্নয়নে এক নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করবে।