তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া
ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, ছাত্রাবাসে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের পর বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত সমঝোতা বৈঠক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া লিখেছেন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কাছে ছাত্রদল পরের ছেলে, আর ছাত্র শিবির ঘরের ছেলে।
তার এই মন্তব্যের আগে গত ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষের পর সরকারি তোলারাম কলেজের ইসদাইর এলাকার শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ছাত্রাবাসের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুরের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাটি নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে বিরোধ মেটাতে একাধিকবার বৈঠক হয়। মহানগর ছাত্রদলের নেতারা ছাত্রশিবিরের কার্যালয়ে গিয়েও সমঝোতার চেষ্টা করেন।
সবশেষ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের কালীরবাজারের বাসভবনে বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ছাত্রাবাস থেকে একটি ল্যাপটপ ও পাঁচটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।
বৈঠকে সংসদ সদস্য আবুল কালামের মধ্যস্থতায় ওই ল্যাপটপ ও পাঁচটি মোবাইলের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতারা সম্মত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। পরে দুই পক্ষের নেতারা বিরোধ মিটিয়ে ফেলার বিষয়ে একমত হন।
এই সমঝোতা বৈঠকের পরই তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তার মন্তব্যে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ভূমিকা নিয়ে ছাত্রদলের ভেতরে অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

