প্রতীকী ছবি
নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একসময় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে চিহ্নিত করা সেই ৫৫ জনের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। ফলে তালিকা তৈরির পরও চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। শিল্পাঞ্চল, পরিবহন খাত, বাজার, হকার নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন খাতে প্রভাব বিস্তার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে বিভিন্ন মহলের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
এরই অংশ হিসেবে অন্তত ৫৫ জনের একটি তালিকা তৈরির কথা সামনে আসে। শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকাটি প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে সেসময় জানিয়েছিল প্রশাসন।
একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, গোপন অনুসন্ধান এবং স্থানীয়ভাবে পাওয়া অভিযোগ যাচাইয়ের কাজ করছে বলেও তখন জানানো হয়েছিল।
তালিকা তৈরির উদ্দেশ্য ছিল চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনা। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল সংশ্লিষ্টরা।
তবে সেই ঘোষণার পর পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি। এখন পর্যন্ত সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান, গ্রেপ্তার কিংবা নিয়মিত মামলা করার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের নজরে না আসায় বিষয়টি নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। ফলে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা অনেক সময় কেবল তালিকা ও বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল ও পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব খাতে অবৈধ অর্থ আদায়ের কারণে ব্যবসার খরচ বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির সঙ্গে রাজনৈতিক কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা থাকলে আইন প্রয়োগ আরও কঠিন হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তালিকাটি তৈরির সময় যেসব তথ্য যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর ভিত্তিতে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ কোনো ব্যক্তিকে শুধু তালিকাভুক্ত করার পরিবর্তে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়াই প্রত্যাশিত।

