মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

|

আষাঢ় ৩১ ১৪৩১

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জে সেলসারদী দরবার শরীফে ধর্মীয় দাঙ্গার চেষ্টা 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ০১:৪৯, ২৪ নভেম্বর ২০২১

নারায়ণগঞ্জে সেলসারদী দরবার শরীফে ধর্মীয় দাঙ্গার চেষ্টা 

সংগৃহীত

কদম বুছিকে সেজদা আখ্যা দিয়ে নারায়ণগঞ্জের সেলসারদী দরবার শরীফে ধর্মীয় দাঙ্গার চেষ্টার অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সেলসারদী গাউছিয়া দরবার শরীফের মোতওয়াল্লী মাওলানা সৈয়দ হাবিবুর রহমান আল-হাসানী আল কাদরী ওয়াল চিশতী এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওয়াকফ এস্টেট অন্তভুক্ত সেলসারদী গাউছিয়া দরবার শরীফে ৭০ বছর যাবৎ ওরশ গাউছুল আজম তথা ফাতেহায়ে ইয়াজ দহম অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ১৬ নভেম্বরও বাৎসরিক এ ওরশ মাহফিল হয়েছে। মাহফিলে খতমে কোরআন,ওয়াজ নসিহত,জিকির আসগার,নাতে রাসুল(সাঃ),মিলাদ কেয়ামের পর দেশ ও জাতীর কল্যান কামনায় দোয়া শেষে তবারক বিতরন করা হয়। মাহফিলের ৭০ বছরের মধ্যে কোন সময় মাদক,গান বাজনা ও অশ্লীল বেহায়াপনা,বেগানা নারী পুরুষের অবাধ মেলা মেশাসহ কোন প্রকার ধর্ম বিরোধী কর্মকান্ড হয়নি। এছাড়া দরবার শরীফের দেয়ালে বড় করে রং দিয়ে লিখে দেয়া হয়েছে দরবার শরীফে সেজদা দেয়া সম্পূর্ন ভাবে নিষেধ। এছাড়াও দেয়ালে অনেক হাদিস লিখা রয়েছে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়,তবারক বিতরনের পর দরবারের মোতওয়াল্লী মাওলানা হাবিবুর রহমান চেয়ারে বসে লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এসময় উগ্র মৌলবাদীরা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ভিডিও ক্যামেরাসহ দরবার শরীফে প্রবেশ করে। এরপর মাওলানা হাবিবুর রহমানের অলক্ষে তার পায়ে কদম বুছি করিয়ে তা ভিডিও করে দ্রুত দরবার শরীফ ত্যাগ করেন অজ্ঞাত লোকজন। পরে সেই ভিডিও সেজদা আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ কিছু অনলাইনে প্রচার করেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে দরবারের বিরুদ্ধে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। এক পর্যায়ে দাঙ্গা হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়।

এবিষয়ে ওই এলাকার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মুকবুল হোসেন জানান,ওই দরবার শরীফে ধর্ম বিরোধী কোন কর্মকান্ড হয়না। কে বা কারা মোতওয়াল্লীর পায়ে সেজদা দেয়া ছবি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম সহ কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় ছেড়েছে তা আমার জানা নেই। তবে সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া বন্দর থানার এসআই মহসিন ভূইয়া এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানান,সেলসারদী দরবার শরীফে কোন অসামাজিক কার্যকলাপ হয়না। ধর্মীয় জিকির আজগার চলে। তবে কেউ চেষ্টা করেছিল অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটাতে। আমরা থানা পুলিশ সতর্কতার সাথে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।

মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন,আমার ৪টি ছেলে কোরআনে হাফেজ। আমি একটি মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক এবং একটি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা। আমি আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের জন্য পাগল। আমাকে সম্মানহানী করা হয়েছে। এজন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছি শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে।