ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর শুরু হয়েছে। এবার বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ভেন্যু পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার আগে থেকেই পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছিল। এ কারণে স্টল বরাদ্দ পেয়ে ব্যবসায়ীরা নির্মাণকাজ আগেভাগেই শেষ করতে পেরেছেন। মেলা শুরুর আগেই ৯৫ ভাগ স্টলের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। এবারের আসরে ৩২৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুরু থেকেই মেলা প্রাঙ্গণ প্রস্তুত থাকলেও তীব্র শীতের দাপটে দর্শনার্থীর সংখ্যা খুবই কম ছিল।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাণিজ্য মেলা উপলক্ষে পূর্বাচল অপরূপ রূপে সেজেছে। মেলার ভেতরে স্টলগুলোতে ক্রেতা আকৃষ্ট করতে ব্যবসায়ীরা লাল, নীল, হলুদ বাতিসহ নানা রঙের আলোকসজ্জা করেছেন। দেশে তীব্র শীত প্রবাহ চলছে। তীব্র শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে মেলার দ্বিতীয় দিন গতকাল রবিবার বিকেল থেকে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে শুরু করেন। মেলায় বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের গৃহস্থালি সামগ্রী, প্রসাধনী, কাপড়, জুতা, খাবারের দোকান, ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচারসহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। বিগত বছরগুলোতে শুরুর দিকে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও এবার কিছুটা বেশি। তবে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এদিন মেলায় বেশি ভিড় দেখা গেছে আইসক্রিম, কাপড় ও গৃহস্থালি দোকানে। এ ছাড়া শিশুদের জন্য তৈরি শিশু পার্কেও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে মেলার ভেতরে অনেক পণ্যের মূল্য বাইরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি হচ্ছে। যে পণ্য বাইরে ৫০০ টাকায় পাওয়া যায়, সেই পণ্য মেলায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে দর্শনার্থীরা ঘুরে-ফিরে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেলার দ্বিতীয় দিন ছুটির দিন হওয়ায় দর্শনার্থীর উপস্থিতি তেমন ভালো ছিল না। শুরুর দিকে প্রত্যাশার চেয়ে তিন গুণ কম দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। এবার ইপিবি আগে থেকে স্টল বরাদ্দ দেওয়ায় সিংহভাগ দোকানের নির্মাণকাজ আগেভাগেই শেষ হয়েছে। তবে এত দর্শনার্থী থাকার পরও বেচাকেনা তেমন ভালো হচ্ছে না। বেচাকেনা কম হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে তারা তীব্র শীত ও পণ্য নেওয়ার পরিবহন ঝামেলাকে দায়ী করছেন।
মেলা ঢাকা থেকে দূরে হওয়ায় অনেকে পরিবহনের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে পণ্য কিনছেন না। এত দর্শনার্থী থাকার পরও যদি বিক্রি ভালো না হয় তাহলে লোকসান গুনতে হবে। পণ্যের গায়ে মূল্য বাড়িয়ে ট্যাগ লাগানোর ব্যাপারে তারা বলেন, আমরা এত টাকা দিয়ে মেলায় দোকান বরাদ্দ নিয়েছি। কিছু টাকা বাড়িয়ে পণ্য বিক্রি না করলে লোকসান হবে।
জুতার ব্যবসায়ী সিয়াম বলেন, তীব্র শীতের কারণে মেলায় দর্শনার্থী কিছুটা কম। যারা আসছেন তারাও পণ্য না কিনে চলে যাচ্ছেন। কয়েক দিন পর থেকে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।
একটি ফার্নিচার কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি সাজিদ আহমেদ বলেন, দর্শনার্থীরা স্টলে এসে ফার্নিচার দেখে ঘুরে-ফিরে চলে যান। মেলায় মানুষ কেনার চেয়ে দেখতে বেশি আসেন। তীব্র শীত ও মেলা শুরুর দিকে দর্শনার্থী কম থাকে। দিন যত বাড়বে দর্শনার্থীও তত বাড়বে বলে আশা করছি।
কাশ্মীরি পণ্যের ব্যবসায়ী আজান বলেন, অন্যান্য বারের চেয়ে পূর্বাচলের মেলা অনেক গোছানো হয়েছে। এবার শুরু থেকেই বেশিরভাগ স্টলের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। দর্শনার্থী আস্তে আস্তে আরও বাড়বে বলে আশা করছি।
মোহাম্মদপুর থেকে আসা আদনানুল হক বলেন, এবারই প্রথম মেলায় ঘুরতে এসেছি। বাসার জন্য কিছু ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিকস পণ্য কেনার ইচ্ছা ছিল। তবে মেলার প্রথম দিকে হওয়ায় না কিনে চলে যাচ্ছি। কয়েক দিন পর আবার এসে কিনে নেব।
খিলক্ষেত থেকে আসা আনিকা আক্তার জানান, তিনি ও তার স্বামী ঘুরতে এসেছেন। মেলায় কী কী পণ্য উঠেছে তা দেখতে এসেছেন। পরে কয়েক দিন পর এসে কিনে নেবেন।
বাণিজ্য মেলার পরিচালক তরফদার সোহেল রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

