বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

|

পৌষ ২৩ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সোনারগাঁয়ে প্রতিদিন ২৪ হাজার ঘনফুট গ্যাস চুরি হতো

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ০০:১২, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

সোনারগাঁয়ে প্রতিদিন ২৪ হাজার ঘনফুট গ্যাস চুরি হতো

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত তিনটি চুনা ফ্যাক্টরি ও একটি ঢালাই কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে এসব কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা রাইয়ান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মেঘনা ঘাট অঞ্চলের ম্যানেজার সুরজিত সাহা এবং সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

তিতাস গ্যাসের মেঘনা ঘাট অঞ্চলের ম্যানেজার সুরজিত সাহা জানান, সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর এলাকায় আবুল কাশেম মাস্টার ও হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন দুটি ঢালাই কারখানা এবং সোনারগাঁ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশের নোয়াব প্রধান ও এতিমখানার সংলগ্ন এলাকায় মতিউর রহমানের একটি চুনা কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল।

তিনি বলেন, এসব কারখানা প্রতিদিন প্রায় ২৪ হাজার ঘনফুট গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করছিল। এর ফলে প্রতি মাসে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছিল। এর আগেও এসব কারখানায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরদিনই পুনরায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে তারা ব্যবসা চালু করতো।

খবর পেয়ে রোববার আবারও অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কারখানাগুলোর ভাট্টি ও স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং সব অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় সাড়ে ৬শ ফুট গ্যাস পাইপ জব্দ করা হয়।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিতাস গ্যাস কোম্পানির কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সহযোগিতায় মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। অভিযানের আগাম খবরও সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে কারখানা মালিকদের কাছে পৌঁছে যায়।

অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট অবৈধ ব্যবসায়ীরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে জেল বা অর্থদণ্ড প্রদান করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্টরা।