বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

|

কার্তিক ১৯ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

শ্রমিকদের জন্য রেশন, হাসপাতাল ও ডরমিটরি চান শিল্পমালিকরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২১:২৭, ৪ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিকদের জন্য রেশন, হাসপাতাল ও ডরমিটরি চান শিল্পমালিকরা

ফাইল ছবি

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবির সঙ্গে একমত পোশাকশিল্পের মালিকেরা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে নতুন মজুরি নির্ধারণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

তবে মজুরি বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমঘন এলাকায় বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের জন্য রেশন, হাসপাতাল ও আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন মালিকপক্ষের নেতারা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি, অর্থাৎ মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।

সবাই এ দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল। যত দ্রুত সম্ভব মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।
বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, মজুরি বোর্ড দ্রুততম সময়ে মজুরি নির্ধারণ করবে। বোর্ড যে সময়সীমা দেবে, সেই সময়ের মধ্যেই মালিকেরা নতুন মজুরি বাস্তবায়ন করবেন।

তবে শুধু মজুরি বাড়ালেই শ্রমিকদের প্রকৃত আয় বাড়বে না বলে মন্তব্য করেন মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, মজুরি বৃদ্ধির পর অনেক সময় বাড়িওয়ালারা বাড়িভাড়া বাড়িয়ে দেন। এতে শ্রমিকেরা বাড়তি মজুরির সুফল পান না। এ জন্য শ্রমঘন এলাকাগুলোতে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি নজরদারির আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিও জানান এই ব্যবসায়ী নেতা। তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের খাতের শ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের জন্য অন্তত রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। পাশাপাশি শ্রমঘন এলাকায় শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল নির্মাণ এবং প্রতিটি এলাকায় ডরমিটরি বা আবাসনের ব্যবস্থা করা গেলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও বিশৃঙ্খলা বন্ধ করে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সবাই কাজ করছেন। কিন্তু বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারে এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। তাই শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বোর্ড আজ প্রথম বৈঠক করেছে এবং নতুন নিম্নতম মজুরি ঘোষণার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। অতীতে এত দ্রুত এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নজির নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, সরকার এবং শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা দায়িত্বশীল শ্রমিক ফেডারেশনগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। এ উদ্যোগের প্রতি সবার আস্থা রাখা প্রয়োজন।

শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মজুরি নির্ধারণের জন্য যে বোর্ড গঠন করা হয়েছে, সেটিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। এ প্রক্রিয়া সহজ হলে শ্রমিক, শিল্প ও দেশের অর্থনীতি সব পক্ষই লাভবান হবে।

কারখানায় বিশৃঙ্খলা না করে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকার, শ্রমিক ফেডারেশন ও মালিকপক্ষ যৌথভাবে কাজ করছে।