ফাইল ছবি
পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ! পরিবার পরিজন নিয়ে উৎসবের এক রঙিন সময়। তবে এই আনন্দ সবার ভাগ্যে জোটে না। সমাজের একদল মানুষ আছেন, যারা ঈদের দিনেও দায়িত্ব পালন করেন নিরলসভাবে। যেন অন্যরা নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারেন সেজন্য এই মানুষগুলোর পরিবার থেকে দূরে থাকা।
রাজধানীসহ সারা দেশে ঈদকে ঘিরে যখন ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ে, তখন ব্যস্ত হয়ে পড়েন পরিবহন শ্রমিক, রেলওয়ে কর্মী ও বাস কাউন্টারের স্টাফরা। যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে দিন-রাত কাজ করেই কেটে যায় তাদের ঈদ।
একজন বাস স্টাফ তাজুল বলেন, তাদের ঈদ কাটে বাসের ভেতরেই। পরিবারকে সময় দিতে না পারলেও যাত্রীদের হাসিমুখই যেন তাদের জন্য হয়ে ওঠে ঈদের আনন্দ।
একইভাবে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করেন ট্রাফিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কাকরাইল এলাকায় দায়িত্বরত এক ট্রাফিক সদস্য জানান, জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব-এই দায়িত্ব থেকেই তারা ঈদের দিনেও ডিউটিতে থাকেন।
কমলাপুর রেলওয়ে থানার এক কর্মকর্তা বলেন, চাকরির কারণে অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়। শুরুতে কষ্ট লাগলেও এখন দায়িত্বই হয়ে উঠেছে বড়।
ঈদের দিনেও থেমে থাকে না গণমাধ্যমকর্মীদের কাজ। খবর সংগ্রহ, ছবি তোলা, লাইভ সম্প্রচার-সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয় তাদের। এক গণমাধ্যমকর্মী জানান, ঈদ তাদের জন্য ছুটির দিন নয়, বরং দায়িত্বের সময়।
এছাড়া ব্যাংক ও এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীরাও ঈদের দিন দায়িত্বে থাকেন নিরবচ্ছিন্নভাবে। মতিঝিলের এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, ছুটির সময়েই নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে বেশি, তাই তাদের সতর্ক থাকতে হয় সবসময়।
অন্যদিকে, জীবিকার তাগিদে রিকশাচালক, সিএনজি চালক ও দিনমজুরদের অনেকেই ঈদের দিনও কাজ করেন। তাদের কাছে ঈদ মানে বাড়তি আয়ের সুযোগ। এক সিএনজি চালক বলেন, একদিন কাজ না করলে সংসার চলে না, তাই ঈদেও কাজ করতে হয়।
পরিবার থেকে দূরে থেকেও দায়িত্ব পালন করা এই মানুষগুলোর ত্যাগেই নির্বিঘ্ন হয় সবার ঈদযাত্রা ও আনন্দ। সমাজের এই নীরব যোদ্ধারাই আসলে ঈদের সময়ের প্রকৃত নায়ক-যাদের অবদান অনেক সময় চোখে পড়ে না, কিন্তু অনুভব করা যায় প্রতিটি মুহূর্তে।

