ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাবে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর কার্যক্রম। উপজেলার চারটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তিনটিই গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে। মাত্র একটি স্টেশন সীমিত পরিসরে চালু থাকলেও সেখানে গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে, একটি গাড়িতে ৫০ টাকার বেশি গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ গ্যাসচালিত যানবাহনের চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, রূপগঞ্জের একমাত্র সচল সিএনজি স্টেশনের সামনে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন শত শত চালক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না। কেউ সামান্য গ্যাস নিয়েই যাত্রী পরিবহনে বের হচ্ছেন, আবার কিছু দূর চলেই ফিরে আসতে হচ্ছে স্টেশনে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি প্রতিদিনের আয়ও কমে যাচ্ছে চালকদের।
স্থানীয়রা জানান, শিল্পসমৃদ্ধ ও বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় রূপগঞ্জে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গ্যাসচালিত যানবাহন চলাচল করে। ফলে গ্যাস সংকটের প্রভাব এখানে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের চলমান গ্যাস সংকটের অন্যতম কারণ মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালের একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়া। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়া এবং সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সংকট আরও বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রূপগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোতে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোকলেস বলেন, দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে শুধু পরিবহন খাত নয়, শিল্প-কারখানা ও স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সময়মতো কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে উৎপাদন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
যাত্রী সামিয়া ইয়াসমিন বলেন, পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।
সিএনজি চালক জাকির হোসেন বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মাত্র ৫০ টাকার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এত অল্প গ্যাসে কয়েক কিলোমিটারের বেশি চলা যায় না। বারবার স্টেশনে ফিরে আসতে হচ্ছে। এতে যাত্রী পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দিতে হয়।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, পাইপলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় তারা চাইলেও চালকদের প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস দিতে পারছেন না। অনেক চালক ও অ্যাম্বুলেন্স ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শুধু রূপগঞ্জ নয়, সারা দেশেই গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং সবাই আগের মতো গ্যাস পাবেন।

