মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

|

শ্রাবণ ১১ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সোনারগাঁয়ে হামেশা গ্রুপের অভিনব প্রতারণা ও কোটি টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:৫৮, ২৭ জুলাই ২০২৬

সোনারগাঁয়ে হামেশা গ্রুপের অভিনব প্রতারণা ও কোটি টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ 

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নে অবস্থিত কথিত রিফাইনারী কোম্পানি "হামেশা গ্রুপ" যেন প্রতারণা ও জালিয়াতির এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। নামসর্বস্ব এই কোম্পানির আড়ালে চলছে সাধারণ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের পথে বসানোর এক গভীর ষড়যন্ত্র। দিনের পর দিন চুক্তিভঙ্গ, বিশ্বাসভঙ্গ এবং রাতের আঁধারে অন্যের মালামাল চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, হামেশা গ্রুপের মূল হোতা ও স্বত্ত্বাধিকারী আসাদুল ইসলাম  দীর্ঘদিন ধরে রিফাইনারি কোম্পানির নাম ভাঙিয়ে সহজ-সরল ব্যবসায়ীদের সাথে অভিনব প্রতারণা করে আসছেন। এই অপকর্মের প্রধান সহযোগীরা হলেন তার নিজের ভাই শহীদ, সাইফুল ও তানভীর। তাদের এই সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে বহু ব্যবসায়ী।

​সর্বশেষ চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, বি.এন ফ্লাওয়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে ২০০০ মেট্রিকটন গম ভাঙিয়ে আটা ও ময়দায় রূপান্তর করার চুক্তি করেছিল হামেশা গ্রুপ। কিন্তু চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বি.এন ফ্লাওয়ারের স্বত্ত্বাধিকারী গোলাম হোসেন বাবুল-কে মেশিনের ত্রুটির মিথ্যা অজুহাত ও টালবাহানা দেখিয়ে দিনের পর দিন হয়রানি করা হয়। এই সুযোগে গমের একটি বিশাল অংশ চোরাই পথে বিক্রি করে কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী গোলাম হোসেন বাবুল অভিযোগ করে জানান, প্রতারক আসাদুল ইসলাম  তাকে আজ পথে বসিয়ে দিয়েছে। তার গচ্ছিত কোটি টাকার মালামাল রাতের আধারে কিংবা দিনে দুপুরে দুষ্কৃতিকারীদের নিয়ে চোরাই পথে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

​স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এর আগেও বিষয়টি নিয়ে সোনারগাঁ থানায় একাধিকবার সালিশ ও বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তবে গত ২৬শে জুলাই রোববার বিকেলে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়ে চোরাই পথে মালামাল বিক্রির সময় ত্যক্ত-বিরক্ত এলাকাবাসী একটি নসিমন গাড়ি ও ৩ টন আটাসহ হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় গাড়ি ও মালামাল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। 

এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার এস.আই হারুন জানান, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এবং চোরাইভাবে মালামাল বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তারা মালামালসহ গাড়িটি থানায় নিয়ে এসেছেন। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে তা প্রকৃত মালিকের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হবে, অন্যথায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​অন্যদিকে, এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে হামেশা গ্রুপের সহযোগী সাইফুল দাবি করেন যে মালামাল নাকি ফ্যাক্টরিতেই রয়েছে এবং এগুলো অন্য কারও। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ ক্রয়-বিক্রয় বা ডেলিভারি পেপার দেখাতে না পেরে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান, যা তাদের অপরাধকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে।

রিফাইনারি কোম্পানির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এ ধরনের প্রকাশ্য চুরি, প্রতারণা এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের পুঁজি লুট করে খাওয়ার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। 

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা আসাদুজ্জামান আসাদ ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যবসায়ীকে এমন নির্মম প্রতারণার শিকার হতে না হয়।