মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

|

ফাল্গুন ১১ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সোনারগাঁয়ের বাগানজুড়ে লিচু ও আমের মুকুলের সমারোহ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৯:১৩, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সোনারগাঁয়ের বাগানজুড়ে লিচু ও আমের মুকুলের সমারোহ

ফাইল ছবি

ফাল্গুনের রোদে রঙ বদলাচ্ছে গ্রামবাংলার প্রকৃতি। সবুজ পাতার ফাঁকে লিচুর মুকুল, আমগাছে ঝুলছে হালকা হলুদ-সবুজ মঞ্জরি। মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠছে সোনারগাঁ–এর জনপদ। মাঠের পর মাঠ, পুকুরপাড়, বাড়ির আঙিনা-সবখানেই এখন মুকুলের ঋতু।
সাধারণত মাঘের শেষ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ে লিচু ও আমগাছে মুকুল আসে। এবারও অনেক গাছে মুকুল দেখা গেলেও কিছু গাছে নতুন পাতার আধিক্য চোখে পড়ছে। চাষিরা বলছেন, নতুন পাতা বেশি হলে মুকুল কম আসার আশঙ্কা থাকে। ফলে ফলন নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া-কোথাও আশাবাদ, কোথাও শঙ্কা।
পানাম, খাসনগর, বৈদ্যেরবাজার, গোয়ালদী, বারদী, দত্তপাড়া, হরিষপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে-লিচু ও আমবাগানে চলছে পরিচর্যার ব্যস্ততা। মুকুল ঝরে পড়া রোধে সেচ, ছত্রাকনাশক প্রয়োগ ও গাছ পরিষ্কার রাখায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন কৃষকেরা।
স্থানীয়ভাবে লিচুর পাতি, কদমী ও চায়না থ্রি জাতের চাষ বেশি হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের আমগাছও রয়েছে বিস্তর। আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানকার লিচু ও আগাম জাতের আম তুলনামূলক আগে বাজারে আসে। তাই মৌসুমের শুরুতেই ভালো দামের প্রত্যাশায় থাকেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় কৃষক আরমান হোসেন বলেন, আমাদের বাগানে  লিচু ও আমগাছে মুকুল এসেছে। তবে কিছু গাছে নতুন পাতা বেশি, তাই ফলন নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নই। অন্যদিকে বাগানমালিক আরিফ হোসেনের কণ্ঠে আশাবাদ, লিচু-আম দুই গাছেই ভালো মুকুল আছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে ভালো লাভ হবে।
লিচু ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, গত বছর ভালো ফলন হয়েছিল। এবার কিছু গাছে পাতার আধিক্য থাকলেও এখনো সময় আছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
সোনারগাঁ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেছেন, চলতি মৌসুমে আম ও লিচুর মুকুল সুরক্ষা এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে-কখন গাছে সেচ দিতে হবে, কখন কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে এবং কীভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচর্যা করতে হবে।
তিনি জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকদের নিয়ে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছে। এসব প্রশিক্ষণে আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই শনাক্তকরণ ও নিরাপদ স্প্রে পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে–কলমে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে কৃষি কর্মকর্তারা সরাসরি বাগানে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।
এ ছাড়া যাঁরা আম ও লিচুবাগানে স্প্রে করতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে স্প্রে মেশিন সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তা বলেন, সময়মতো সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এ মৌসুমে আম ও লিচুর উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।