ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন নারায়ণগঞ্জ-৪-এ বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনের বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ফলাফলকে অনেকেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।
দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই প্রেক্ষাপটে এনসিপির এই জয় শুধু একটি আসনের বিজয় নয়, বরং দলটির সাংগঠনিক শক্তি, মাঠপর্যায়ের কর্মীসমর্থন এবং জনসম্পৃক্ততার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচনী প্রচারণায় আব্দুল্লাহ আল আমিন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, কর্মসংস্থান, নগর ব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে গুরুত্ব দেন। এতে করে তরুণ ভোটারদের পাশাপাশি মধ্যবয়সী ও প্রবীণ ভোটারদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া পড়ে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে তারা বিজয় উদযাপন করেন।
দলটির নেতারা বলছেন, এই জয় প্রমাণ করে যে জনগণ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিকে সুযোগ দিতে প্রস্তুত। তাদের দাবি, এনসিপি শুধু বিরোধী রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং গঠনমূলক ভূমিকার মাধ্যমে সংসদ ও রাজপথ—উভয় জায়গায় জনস্বার্থের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য।
এদিকে পরাজয়ের পর বিএনপি জোটের নেতারা ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা জানালেও নির্বাচনী মাঠে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তবে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রচলিত রাজনৈতিক শক্তির বাইরে গিয়ে ভোটারদের বড় একটি অংশের সমর্থন পাওয়াই এনসিপির বিজয়ের মূল কারণ।
নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে আব্দুল্লাহ আল আমিন দায়িত্ব নেওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই আসনের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সমস্যাগুলো জাতীয় সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এনসিপি যে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আগামীর রাজনীতিতে এই জেলা এবং এর আশপাশের এলাকায় দলটি আরও সক্রিয় ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করবে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা।

