রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬

|

ফাল্গুন ১৫ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

শেষ নির্বাচন, ভোটারদের খোঁজ করেন না নেতারা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২১:৩২, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শেষ নির্বাচন, ভোটারদের খোঁজ করেন না নেতারা

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কয়েক মাস আগেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী, মনোনয়ন প্রত্যাশী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে মুখর ছিল অলিগলি, হাটবাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইলেও এখন দৃশ্যপট একেবারেই ভিন্ন। নির্বাচন শেষ হতেই সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ নেতাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ছিল ব্যাপক রাজনৈতিক তৎপরতা। বিশেষ করে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। সামাজিক অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিল, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যায় পাশে দাঁড়ানো, সবখানেই দেখা মিলত তাদের। দল চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার পর প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন চান, উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণার পর সেই চিত্র আর নেই। অনেক ভোটারা বলছেন নির্বাচনের আগে যারা নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন, তারা এখন ফোন ধরছেন না। এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ভাঙা রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিয়ম, জলাবদ্ধতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা ইস্যু নিয়ে যোগাযোগ করতে গেলেও আগের মতো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

কালীরবাজার এলাকার দোকানদার নিলয় বলেন, ভোটের আগে প্রতিদিন কেউ না কেউ আসত। এখন সমস্যা নিয়ে গেলে বলা হয় পরে দেখা হবে। কালাম সাহেব ছাড়া বাকি প্রার্থীরা তাদের ব্যানারও সরাননি।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁর কয়েকজন বাসিন্দারাও। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই যেন ভোটারদের সাথে নেতাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, ভোট শেষ হলেই সেই সম্পর্কের ইতি। এত এত প্রার্থী থাকার পরও এখন বিজয়ী প্রার্থী ছাড়া কেউ নেই।

একই অবস্থা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোরও। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনপূর্ব সময়ে বেশ সক্রিয় থাকলেও এখন অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। দল ক্ষমতায় না আসায় তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমেও কিছুটা স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। তবে ভেতরে ভেতরে অনেকে পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

রাজনৈতিক দলগুলো বছরজুড়ে ধারাবাহিক জনসম্পৃক্ততা না থাকায় ভোটের সময় হঠাৎ করে তৎপরতা বাড়ে, পরে আবার তা কমে যায়। এতে রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হোক বা পরাজিত প্রার্থী সবারই উচিত নিয়মিত এলাকায় উপস্থিত থাকা এবং জনগণের সমস্যায় পাশে দাঁড়ানো। কারণ গণতন্ত্রের মূল শক্তি ভোটাররা। শুধু ভোটের সময় নয়, পুরো সময়জুড়ে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলেই রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।