ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। দায়িত্ব নেয়ার পরেই ৬০ দিনের মধ্যে নগরীকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেছেন সাখাওয়াত। এসময়ের মধ্যে যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে এ কাজটি সাখাওয়াতের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নগরবাসী।
নারায়ণগঞ্জ শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চিহ্নিত হয়ে আসছে যানজট। চাষাঢ়া, দুই নম্বর রেলগেট, বঙ্গবন্ধু সড়ক, নিতাইগঞ্জ, খানপুর ও কালীরবাজার এলাকায় প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে অফিস ও স্কুলে যাওয়া আসার সময় শহরজুড়ে স্থবিরতা দেখা দেয়।
চাষাঢ়ার এলাকার ব্যবসায়ী নাদিম হোসেন বলেন, ১০-১৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো এক ঘণ্টা লেগে যায়। যদি যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
সড়ক অব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং সমস্যার সমাধান গণপরিবহনের রুট সমন্বয় ও ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
এদিকে নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে। ফলে পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অতীতে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও এর স্থায়ী সমাধান হয়নি। উচ্ছেদের পর কয়েকদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও পুনর্বাসন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নতুন প্রশাসকের কাছে তাই একটি সমন্বিত ও মানবিক পরিকল্পনার প্রত্যাশা করছেন নগরবাসী।
এদিকে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নিয়েই এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, আমার প্রথম কাজ হবে নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কিশোর গ্যাংসহ সব অপকর্ম থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে মুক্ত করা। এছাড়া সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ হবে নগরীর যানজট, রাস্তার বেহাল অবস্থা সমাধান করা।
তিনি আরও বলেন, আজকে আমাকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আমি দলের এমপি, প্রশাসন সবাইকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের এই সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। আমরা ৬০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। আমি জনগণের মন জয় করে জনগণের প্রশাসক হতে চাই। আমি মন প্রাণ দিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর সকল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।

