বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

|

শ্রাবণ ২৮ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

বন্দরে চাঁদা না পেয়ে ডকইয়ার্ডে সন্ত্রাসী হামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২০:৪৩, ১৩ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২০:৪৬, ১৩ আগস্ট ২০২৬

বন্দরে চাঁদা না পেয়ে ডকইয়ার্ডে সন্ত্রাসী হামলা

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাঁদার দাবি একটি ডকইয়ার্ডে (জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান) সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও তান্ডব চালিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী বল্টু আমাজাদ গং। হামলায় বাধা দেওয়ায় জাহাজ মেরামতকারী এই প্রতিষ্ঠানের মালিককে অফিস কক্ষ থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বটগাছের নিচে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বন্দর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারকান্দী এলাকায় অবস্থিত ‘এস এ হাইড্রোলিক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস’ নামের ডকইয়ার্ডটিতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) মোঃ ফায়েজ আহম্মেদ (৩২) বাদী হয়ে বন্দর থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন, স্থানীয় খন্দকার আমজাদ হোসেন ওরফে বল্টু আমজাদ (৫৫), তাঁর দুই ছেলে মোঃ হৃদয় (৩০) ও মোঃ সুলতান মাহমুদ আপন (২৩) এবং তাঁদের সহযোগী আরিফ (২৫)। অভিযুক্তরা সকলেই নবীগঞ্জ বক্তারকান্দী এলাকার বাসিন্দা। এছাড়াও বল্টু আমজাদ বন্দর থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী।

অভিযোগে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দলবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ হয়ে ডকইয়ার্ডের মূল ফটকে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা জোরপূর্বক গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরে থাকা ডকইয়ার্ডের বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। পরে তারা ডকইয়ার্ড থেকে বেশ কিছু মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে বাধা দিলে সেখানে কর্মরত কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলা ও তাণ্ডবের পুরো চিত্র সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ করা আছে বলে জানান বাদী।

হামলা চলাকালে ডকইয়ার্ডের মালিক মোঃ ঈমান খান (৪২) তাঁর অফিসে অবস্থান করছিলেন। সন্ত্রাসীরা তাঁকে অফিস রুম থেকে জোরপূর্বক ধরে এনে বাইরের একটি বটগাছের নিচে নিয়ে যায় এবং ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ঈমান খান চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর নীলাফোলা ও রক্তাক্ত জখম করে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এই ডকইয়ার্ডের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে তাঁদের নিজস্ব জুট কারখানা ও স্থানীয় ক্লাবে ব্যবহার করে আসছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় ডকইয়ার্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দেওয়া হতো। এছাড়া ৩ নম্বর অভিযুক্ত প্রতি মাসে এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নিত, যার লিখিত প্রমাণ ও রসিদ তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

ডকইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক মোঃ ফায়েজ আহম্মেদ জানান, "আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। সন্ত্রাসীদের ভয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি।"

এ বিষয়ে বন্দর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।