বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬

|

শ্রাবণ ১৯ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

রূপগঞ্জে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই সড়ক নির্মাণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:১৯, ৪ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৬:২০, ৪ আগস্ট ২০২৬

রূপগঞ্জে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই সড়ক নির্মাণ

মায়ার বাড়ি-ডাঙ্গা লিংক সড়ক

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মায়ার বাড়ি-ডাঙ্গা লিংক সড়কে আরসিসি ঢালাই রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও এখনো অপসারণ করা হয়নি সড়কের মাঝামাঝি ও পাশের ৭২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি।

৩৩'শ কেভি ও ১১'শ কেভি ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। এতে একদিকে যেমন নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারী ও যানবাহন চলাচলেও তৈরি হয়েছে চরম ঝুঁকি। প্রতিদিনই রাতের অন্ধকারে নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশেই বাজার থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এক প্রকার খুটি গুলো এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত বৈদ্যুতিক তারের খুঁটি অপসারণ না করা হলে দুর্ঘটনা আরো বাড়বে বলে জানান স্থানীয়রা । তবে, সড়কে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি দ্রুত সরিয়ে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে , নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ৩ ফুট সড়ক, ঢাকা সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়ক ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে মায়ারবাড়ি থেকে গাজীপুর ও নরসিংদী এলাকায় চলাচলের জন্য মায়ারবাড়ি-ডাঙ্গা লিংক সড়ক নির্মাণ কাজ হাতে নেয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ। ২৪ ফুট প্রশস্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় সাগর ইনফো বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই ৩৩'শ কেভি ও ১১'শ কেভি ভোল্টেজের ৭২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই সড়ক নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। অথচ বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। বর্তমানে রাস্তার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কাঞ্চন-ডাঙ্গা লিংক সড়কের জেড-২০৪৩ চেইনেজ এলাকার উভয় পাশে থাকা প্রায় ৭২টি বিদ্যমান বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের জন্য নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এবং নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার বরাবর আবেদন করা হয়।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ খুঁটি স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ডিমান্ড লেটারও পাঠায়। কিন্তু প্রায় দুই বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত খুঁটি স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়নি। ফলে নতুন নির্মিত সড়কের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েই গেছে, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। দ্রুত বৈদ্যুতিক লাইনের খাম্বা অপসারণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও গাড়ী চালকরা জানান , নতুন সড়ক নির্মাণ হলেও খুঁটি না সরানোর কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তার মাঝে বৈদ্যুতিক খুঁটি (খাম্বা) থাকায় বড় গাড়ি ঢুকতে পারছে না ফলে অধিক খরচ বহন করে মালামাল নিয়ে বাড়িঘরের নির্মাণ কাজ করতে হচ্ছে।  দ্রুত খুঁটি অপসারণ করে সড়কটি সম্পূর্ণভাবে চলাচল উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্রাকচালক আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতির লক্ষ্যে সড়কটি করা হয়েছে। কিন্তু বৈদ্যুতিক খুঁটি মাঝখানে রেখেই সড়ক নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করার কারণে এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে ঝুঁকি আর বেড়েছে। ট্রাকে মালামাল নিয়ে সড়ক ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বৈদ্যুতিক খুটি সরানোর দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমান আলী বলেন, কোন প্রকার একোয়ার না করেই জমি নিয়ে সড়কের দুইপাশ প্রশস্ত করেছেন সড়ক কর্তৃপক্ষ। তারপরও আমাদের আফসোস নেই সড়ক নির্মাণ হোক। তবে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই সড়ক নির্মাণের ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা কোন কাজেই আসছে না। জনভোগান্তি থাকছেই।

ব্যাটারি চালিত অটোচালক মাসুদ মিয়া বলেন, প্রায় সময়ই খেয়াল না করায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সংঘর্ষ বাধছে বিভিন্ন যানবাহনের। এতে হতাহতর ঘটনা ঘটছে। এই বিদ্যুতের খুঁটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। 

দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কে থাকা বৈদ্যুতিক তারের খুঁটি না সরানো হলে প্রতিদিনই  দুর্ঘটনার কবলে পড়বেন গাড়ি চালকসহ পথচারীরা। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয়ে এ সড়ক কোন কাজে আসবে না। ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কে থাকা ওই বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো অপসারণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, এটাতো সড়কের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের সড়কে তারা বৈদ্যুতিক খুঁটি পুঁতে রাখে অথচ সরাতে বললে সড়ায় না। আমাদেরতো একটা প্রক্রিয়া আছে আমরা তো টাকাটা দিবো। উনাদের সক্ষমতা থাকলেও উনারা সাহায্য করে না। পল্লী বিদ্যুতের বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। শীঘ্রই বরাদ্দের টাকা পল্লী বিদ্যুৎকে দেওয়া হবে। তবে, মানুষের জনভোগান্তির কথা চিন্তা করে পল্লী বিদ্যুৎ ছুটি গুলো আগে থেকেই সরাতে পারতেন। 

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ বলেন, কাঞ্চন মায়ারবাড়ি-ডাঙ্গা লিংক সড়কে ৩৩'শ কেভি ও ১১'শ কেভি ভোল্টেজের দুটি লাইন রয়েছে। নিয়ম রয়েছে সড়ক নির্মাণের পূর্বেই জামানত জমা দিয়ে খুঁটিগুলো সরানো। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সড়ক ও জনপদ বিভাগ অনুসরণ না করে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই সড়ক নির্মাণ কাজ করছে। পল্লী বিদ্যুৎ তাদের বারবার অবহিত করার পরেও তারা সাড়া না দিয়ে সড়কের কাজ করে ফেলছে। যেহেতু বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে সেহেতু আমরা জনদুর্ভোগের চিন্তা করে আগে থেকেই খুঁটিগুলো সরিয়ে ফেলবো। আরে কাজ আগামী দুই মাসের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে।