ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সালেহ নগর এলাকায় সন্ত্রাসী শেখ সিফাত গ্রুপের সশস্ত্র হামলায় মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল (৪০) নামের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক নেতা ও বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার বাদী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাত ও হোয়াইট জুম্মন সহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। ভোর থেকে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত বাকি আসামিদের নাম নাম পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাতে সালেহ নগর সিকদার মালেক সাহেবের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তায় বুলবুলকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
নিহত মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর থানা শাখার আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ি এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে সালেহ নগর এলাকায় রাস্তায় একা পেয়ে শেখ সিফাত গ্রুপের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বুলবুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, নিহত বুলবুল গত ২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে দায়ের করা একটি বৈষম্যবিরোধী মামলার (মামলা নং-১৪) প্রধান বাদী ছিলেন। উক্ত মামলায় অভিযুক্ত শেখ সিফাত ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহার না করা এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
এ ঘটনার পরে রাতে সিফাত বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানে নামে পুলিশ। বন্দর উপজেলরা নবীগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালায় সিফাত বাহিনী। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শেখ সিফাতসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, শেখ সিফাতসহ নয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

