শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

|

ভাদ্র ৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সোনারগাঁয়ে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও জানালার গ্রীল লুট বিএনপি নেতার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:৪৫, ২১ আগস্ট ২০২৬

সোনারগাঁয়ে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও জানালার গ্রীল লুট বিএনপি নেতার

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কার্যালয়ের হামলা ভাংচুরের পর এবার আসবাপত্র ও জানালার গ্রীল লুট করে নিলো বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬নং ওয়ার্ড কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে এসব লুট করে নিয়ে যায়। এর আগে গত বুধবার দুপুরে দুই পক্ষের সংষর্ষে ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারীসহ উভয় পক্ষের ১১জন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় দু’পক্ষের অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের সাথে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের সাথে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। এবিরোধের জেরে গত বুধবার দুপুরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, সবুর খাঁন, আব্দুল লতিফসহ সহ ১০-১৫জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড নিয়ে আষাঢ়িয়ার চর বাস স্ট্যান্ডে পিরোজপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করে। হামলায় কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংর্ষষ হয়। সংঘর্ষে আব্দুর রউফ পক্ষের পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারী, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মফিজুল ইসলাম মফিজ, আবু আক্কাস, ইয়ানবি, রিফাত ও রাফিদ আহত হয়। অপর পক্ষের আব্দুল জলিল, সবুর খাঁন, ডালিম আহত হয়।

এদিকে সংঘর্ষের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে পুনরায় বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিলসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রীল লুট করে নিয়ে যায়। সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনায় সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলির পক্ষের আহত সবুর খাঁন বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় পৃথক  অভিযোগ দায়ের করেন।

সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচুত্য হওয়ার পর তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় নির্মাণ করেন। বিরোধের জেরে আব্দুল  জলিলের নেতৃত্বে হামলা করে ভাংচুর করা হয়। পরে রাতে বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার টেবিল, কেবিনেটসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রীল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি ভাংচুর করা হয়।

অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আব্দুল রউফের স্ত্রী ও ছেলেরা বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার টেবিল ও জানালার গ্রীল পিকআপে করে নিয়ে গেছেন। উল্টো দলীয়ভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এ অপপ্রচার করা হচ্ছে।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। দলীয়ভাবে নিজেরা মিমাংসা করতে পারলে মামলার প্রয়োজন নেই। তবে মিমাংসা না হলে উভয় পক্ষের মামলা গ্রহন করা হবে।

সোনারগাঁ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধে দলীয় কার্যালয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও তাদের মধ্যে হামলা সংঘর্ষ হয়। দলীয় পদ ব্যবহার করে কেউ অপকর্মে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে এমপি সাহেবের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।