বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

আশ্বিন ১৪ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

চলছে চূড়ান্ত তালিকার কাজ, ফিরছে অপারেশন ক্লিনহার্ট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২২:০৩, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলছে চূড়ান্ত তালিকার কাজ, ফিরছে অপারেশন ক্লিনহার্ট

প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও মাদক কারবারে জড়িতদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এর আগে জেলার বিভিন্ন খাত থেকে অন্তত ৫০ জন চাঁদাবাজের নাম পুলিশের তালিকায় উঠে এসেছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে। পরিবহন, ফুটপাত, বাজার, হাট, খেয়াঘাট ও টার্মিনালকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বাইরেও কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যাবসায়ীদেরও তালিকা হচ্ছে। 

এদিকে, অপরাধ দমনে ২০০২ সালের ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর আদলে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।

শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শহরের পাশাপাশি সদর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন স্ট্যান্ড, বাজার ও ফুটপাতকে ঘিরে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে অটোরিকশা, রিকশা ও বাসস্ট্যান্ডে চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক চাঁদা আদায় এবং ঘাট ও টার্মিনালকেন্দ্রিক অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচিত।

নারায়ণগঞ্জের তালিকায় ৫০ জনের নাম রয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের নাম, পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট এলাকার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তালিকায় কারা রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং কোন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে—এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ।

জেলা পুলিশের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে শুধু মাঠপর্যায়ে টাকা সংগ্রহকারীদের নয়, বরং চক্রের মূল হোতাদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। চাঁদা তোলার স্থান, কার্যক্রমের ধরন, সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং আদায়ের পরিমাণের তথ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও মাদক বিক্রির যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির উদ্যোগের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় অভিযানের আলোচনা যুক্ত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে নজর এখন পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান হলে পরিবহন খাত, বাজার, ফুটপাত ও ঘাটকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তালিকা তৈরি ও অভিযান পরিচালনার বিষয়টি আলাদা, তালিকা প্রস্তুত হলেই গ্রেপ্তার বা অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চাঁদাবাজির কারণে তাঁদের নিয়মিত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি দেখানো বা ব্যবসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, তালিকা তৈরির পর কার্যকর ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চাঁদা আদায়ের পথগুলো বন্ধ করা হবে।