ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর দেশত্যাগে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন সহযোগিতা করেছেন, এমন অভিযোগ ঘিরে আড়াইহাজারের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ সুমনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলেন। এর পর থেকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে সুমন অভিযোগকে মিথ্যা প্রচারণা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অভিযোগের সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরের সময়কে ঘিরে। বিএনপির স্থানীয় একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু মাহমুদুর রহমান সুমনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পরে দেশত্যাগের ক্ষেত্রেও সুমনের সহযোগিতা পেয়েছিলেন। সুমনের গাড়িতেই আড়াইহাজার ছাড়েন বাবু এমনটা দাবি একাংশের।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর আড়াইহাজারের হাইজাদী ইউনিয়নের ধন্দী গ্রামে এক দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তার বক্তব্য অনুযায়ী, সুমন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য বাবুকে আশ্রয় দিয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। এ অভিযোগের পর সুমনকে আড়াইহাজারে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার কথাও জানান আজাদ।
অন্যদিকে, মাহমুদুর রহমান সুমন অভিযোগগুলোকে মিথ্যা প্রচারণা বলে অভিহিত করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ বা তথ্য রয়েছে, তা প্রকাশ করা উচিত। তার দাবি, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ফলে দেশত্যাগে সহযোগিতার অভিযোগ নিয়ে দুই বিএনপি নেতার বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে।
বাবু ও সুমনের রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও অতীতে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর একটি টেলিভিশন টকশোতে তৎকালীন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু ও বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান সুমন একসঙ্গে আড়াইহাজারের রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে বাবু সুমনকে বিএনপির একজন সাহসী প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলা না থাকার কথা বলেন বলে সংবাদে প্রকাশিত হয়। তবে ওই আলোচনায় অংশ নেওয়া বা রাজনৈতিক পরিচিতি থাকা থেকে দেশত্যাগে সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও তাদের ঘনিষ্ঠতার স্পটতা দেয়।
এদিকে, আড়াইহাজারে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এ অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংসদ সদস্য আজাদের বক্তব্যের পর সুমনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠলেও অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্য ও যাচাইযোগ্য প্রমাণের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য বাবুর দেশত্যাগের সময়কার পরিস্থিতি এবং তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ রেখেছিলেন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

