
ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া থেকে মঙ্গলেরগাঁও বটতলা বাজার পর্যন্ত সড়কে সেতু নির্মাণে ধীরগতি। বর্ষা মৌসুমে নির্মাণাধীন সেতুর পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এ সড়কে চলাচলরত পিরোজপুর ও শম্ভুপুরা দুটি ইউনিয়নের ২৫ গ্রামের মানুষ।
সম্প্রতি পানিতে তলিয়ে যাওয়া অ্যাপ্রোচ সড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করে আহত হয়েছেন নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কমপক্ষে ৫০ জন। তাছাড়া সেতু নির্মাণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জরুরি পণ্য সরবরাহ করা ভারী যানবাহন চলাচলও একেবারে বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় মঙ্গলেরগাঁও এলাকার বাসিন্দারা জানান, সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করার সময় আমরা এলাকাবাসী ঠিকাদারকে বলেছিলাম, সামনে বর্ষা মৌসুম সেতুর পাশে অ্যাপ্রোচ সড়কটি একটু উচু করে তৈরি করতে। ঠিকাদার আমাদের কথার কোনো তোয়াক্কা করেনি, অ্যাপ্রোচ সড়কটি নিচু করে তৈরি করার কারনে জোয়ারের সময় সড়কটি কোমর সমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে করে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এসড়কে চলাচলরত দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। সেতু নির্মাণে ধীরগতি ও চলাচলে ভোগান্তির বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সোনারগাঁ উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর চৌধুরীকে অবগত করলে তিনি জানান, অতিদ্রুত জনভোগান্তি নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশ্বাস দেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোগরাপাড়া থেকে মঙ্গলেরগাঁও বটতলা বাজার সড়কে সেতু নির্মাণের জন্য ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মেসার্স খাজা চিশতিয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফলতির কারণে এখোনো পর্যন্ত ৬০ শতাংশ কাজও শেষ করতে পারেনি।
এ বিষয়ে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও মঙ্গলেরগাঁও এলাকার বাসিন্দা, খোরশেদ আলম ফরাজী জানান, সেতু নির্মাণের শুরুতে জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে তড়িঘড়ি করে বিকল্প একটি অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একটু উচু করে অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরি করার পরামর্শ দিলেও তারা কারো কোনো কথা তোয়াক্কা করেনি। এ সড়কে পিরোজপুর ইউনিয়নের চরগোয়ালদী, পাঁচানী, মিরবহরেরকান্দি, খাসেরগাঁও, শান্তিনগর, কোরবানপুর, মঙ্গলেরগাঁও, দুধঘাাঁ, চান্দেরচক, তাতুয়াকান্দি ও শম্ভুপুরা ইউনিয়নের ফরদী, শম্ভুপুরা, এলাহীনগর, নবীনগর, হোসেনপুর, চেলারচর, একরামপুরা, মনাইকান্দি, ভিডিগাঁও, রামগোবিন্দেরগাঁও, চৌধুরীগাঁও, কাজিরগাঁও, গজারিয়াপাড় ও দূর্গাপ্রসাদসহ প্রায় ২৫ গ্রামের মানুষের চলাচল। বর্ষা মৌসুমে অ্যাপ্রোচ সড়কটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গত এক মাসে এ সড়কে চলাচল করতে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা উল্টে প্রায় অর্ধ শতাধিক নারী পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছে।
মঙ্গলেরগাঁও বটতলা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী সজিব মিয়া বলেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়কে সবজি নিয়ে বাজারে আসা খুবই কষ্টকর। প্রায় সময় সবজিসহ অটোরিকশা উল্টে যায়। সে জন্য অনেক অটোচালকরা এ সড়কে আসতে চায় না। তাছাড়া যাতায়াত খরচও আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। সোনারগাঁ সরকারি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থী জানান, সম্প্রতি কলেজে যাওয়ার সময় সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় অটোরিক্সা উল্টে আহত হয় সে। এ সড়কে প্রতিদিন পানি মারিয়ে চলাচল করতে অনেক ভয় আতঙ্কে থাকতে হয়।
শম্ভুপুরা ইউনিয়নে চৌধুরীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউর রহমান বলেন, এ সড়কে আমি নিয়মিত যাতায়ত করি। আসা যাওয়ায় অনেক কষ্ট হয়। সেতু নির্মাণের পাশাপাশি অ্যাপ্রোচ সড়কটিও অতিদ্রুত উচু করা জরুরি। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাজা চিশতিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তমাল ঘোষ জানান, শ্রমিক সংকট অন্যান্য কিছু জটিলতার কারণে দ্রুত কাজ শেষে করতে পারিনি। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় ও বৃষ্টি বাদলার কারণে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অচিরেই অ্যাপ্রোচ সড়কটি উচু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সোনারগাঁ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী আলমগীর চৌধুরী জানান, নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্রোচ সড়কটি উচু করার জন্য এক্সকাভেটর (ভেকু) পাঠানো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।