প্রতীকী ছবি
নারায়ণগঞ্জের বন্দর শাহীমসজিদ দক্ষিণ খালপাড়া এলাকায় পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। জমি ক্রয়ের বায়না বাবদ দেওয়া ৩ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ায় মোসাঃ কল্পনা (৪০) নামে এক নারীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। হামলায় কল্পনা বেগমের মাথায় ৬টি সেলাই লেগেছে এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও ৩ জন আহত হয়েছেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কল্পনা বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় ৬ জন নামধারীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন— মোঃ ফারুক (৪৫), সিয়াম (২২), সুরুজ (৫০), সাব্বির (২২), হাবিবুর (৩০) ও মোসাঃ ইয়াসমিন (৪০)। তারা সবাই বন্দরের বালুচর এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কল্পনা বেগমের বড় ভাই মৃত আলমগীর হোসেন ১নং বিবাদী ফারুকের কাছ থেকে জমি ক্রয়ের জন্য ৩ লাখ টাকা বায়না করেছিলেন। পরবর্তীতে ফারুকের জমিতে সমস্যা থাকায় কল্পনা বেগম জমি না নিয়ে টাকা ফেরত চান। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও বিবাদীরা টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তারা তা দেয়নি।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে টাকা ফেরত চাওয়ার জন্য কল্পনা বেগম ও তার ভাতিজা মুন্না বিবাদী ফারুকের কাছে গেলে ফারুকসহ অন্যান্য বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে ফারুক ও সিয়াম দেশীয় অস্ত্র ও ছুরি দিয়ে কল্পনা বেগমের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় তাকে বাঁচাতে ভাই গোলজার হোসেন (৫০), ভাতিজা মুন্না ও রাজু এগিয়ে এলে বিবাদীরা এসএস পাইপ ও রড দিয়ে তাদের ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালায়। এতে তারাও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন।
আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কল্পনা বেগমের মাথায় গুরুতর জখম দেখে ৬টি সেলাই দেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিবাদীরা যেকোনো সময় পুনরায় হামলা করতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্দর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাওনা টাকা ও হামলা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

