ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের সড়ক যোগাযোগে নতুন গতি আনতে নির্মাণাধীন পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দ্বিতীয় তলা সড়ক প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৯৭ শতাংশে পৌঁছেছে। সব কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পঞ্চবটি থেকে চরসৈয়দপুর পর্যন্ত অংশটি খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ অংশে বর্তমানে এক্সপানশন জয়েন্ট স্থাপন, রোড মার্কিংসহ শেষ ধাপের বিভিন্ন কাজ চলছে। একই সঙ্গে মুক্তারপুর-পঞ্চবটি অংশের বাকি কাজও দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও এলিভেটেড সড়ক নির্মাণের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জের পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগও আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে পঞ্চবটি, ফতুল্লা ও মুন্সীগঞ্জের ব্যস্ত সড়কপথে দীর্ঘদিনের যানজট কমানোর ক্ষেত্রে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, দ্বিতীয় তলা সড়ক চালু হলে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে যানবাহনের গতি বাড়বে এবং যানজটের কারণে সড়কে যে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়, সেটিও অনেকটা কমে আসবে।
প্রকল্পের সমীক্ষা অনুযায়ী, অবকাঠামোটি পুরোপুরি চালু হলে যাতায়াতের সময় প্রায় ৬২ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমতে পারে। যানবাহনের গড় গতি বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ৪৫ গুণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি যানজটজনিত বিলম্ব প্রায় ৭৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত টিম লিডার প্রকৌশলী জহুরুল হক জানান, দ্বিতীয় তলা সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশে পিচঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ওপরের সড়কে ওঠার জন্য বিভিন্ন স্থানে র্যাম্প নির্মাণের কাজ চলছে। সড়কের নিরাপত্তা ও আলোকসজ্জার জন্য সোলার লাইটও স্থাপন করা হচ্ছে।
দ্বিতল সড়কের ওপরের অংশটি ৩৬ ফুট প্রশস্ত এবং দুই লেনের। বর্তমানে এই অংশে টপ লেয়ার বিটুমিনাস কার্পেটিং, রোড মার্কিং এবং অন্যান্য ফিনিশিং কাজ চলছে।
অন্যদিকে নিচের অংশে ৫৪ ফুট প্রশস্ত চার লেনের সড়ক থাকছে। ওপরের সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের কাছ থেকে টোল নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও নিচের চার লেনের সড়কটি টোলমুক্ত রাখার কথা রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রস্তাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় তলা দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলে ২০ টাকা, সিএনজি অটোরিকশায় ৫০ টাকা, প্রাইভেটকারে ৮০ টাকা, মাইক্রোবাসে ১০০ টাকা এবং বাসে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত টোল নির্ধারণের কথা রয়েছে। তবে এসব হার এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলাকরণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। একটি চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পের আওতায় ১০ দশমিক ৮১৩ কিলোমিটার সমতল সড়ক প্রশস্তকরণের পাশাপাশি ৯ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার এলিভেটেড সড়ক ও র্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে চারটি টোল প্লাজা, পাঁচটি ওজন স্কেল, কাশিপুর ও গোগনগর সেতু প্রশস্তকরণ, একটি আরসিসি সেতু, ট্রাক স্ট্যান্ড এবং দুটি নন-মোটরাইজড যানবাহন পার্কিং নির্মাণের কাজও রয়েছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১২১টি এক্সপানশন জয়েন্টের মধ্যে একটি স্থাপন হয়েছে এবং বাকিগুলোর কাজ চলমান। ৫৮৬টি সোলার প্যানেলের মধ্যে ৩৪২টি বসানো হয়েছে।
এ ছাড়া সাত হাজার ৪০০ মিটার এইচডিপিই পাইপ স্থাপনের লক্ষ্যের বিপরীতে সাত হাজার ২১৫ মিটার এবং আট হাজার ১১ মিটার ড্রেনেজ পাইপের মধ্যে ছয় হাজার ৬২২ মিটার স্থাপন করা হয়েছে।
এ্যাট-গ্রেড সড়কের কাজেও অগ্রগতি রয়েছে। আর-৮১২ মেইন রোড অংশে ১৬ হাজার ৭৯২ মিটার সিসি কাজের মধ্যে ১৫ হাজার ২৮৪ মিটার এবং আরসিসি কাজের ১৪ হাজার ৯৪৬ মিটার সম্পন্ন হয়েছে। আর-৮১০ বা চাষাঢ়া-ফতুল্লা অংশে দুই হাজার ৪০০ মিটার সিসি কাজের এক হাজার ২৫৮ মিটার এবং আরসিসি কাজের এক হাজার ২৩৯ মিটার শেষ হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, এখনকার কাজের গতি ধরে রাখা গেলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পঞ্চবটি-চরসৈয়দপুর অংশ খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। আর অবশিষ্ট কাজ শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যেই পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দ্বিতীয় তলা সড়ক পুরোপুরি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

