ফাইল ছবি
বাংলাদেশ রেলওয়ের আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই চালানো উচ্ছেদ অভিযানে তিতাস গ্যাসের মূল বিতরণ লাইন ও রাইজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দেখা দেয় চরম গ্যাস সংকট। টানা চার দিন নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টার পর ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামত করে বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
তিতাস গ্যাস সূত্র জানায়, গত ১২ অক্টোবর (সোমবার) নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড ও সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো: এরশাদ উদ্দিন এবং স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: সাদরুল আলমের নেতৃত্বে দিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয়। তবে অভিযান শুরুর আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তিতাস গ্যাসকে কোনো ধরনের আগাম নোটিশ বা সতর্কবার্তা দেয়নি।
অভিযান পরিচালনাকালে ভারী এক্সেভেটর (বেকু) দিয়ে স্থাপনা উচ্ছেদের সময় ভূগর্ভস্থ ১টি বাণিজ্যিক ও ১৫টি আবাসিকসহ মোট ১৬টি গ্যাসের রাইজার এবং বিতরণ পাইপলাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থল থেকে তীব্র গতিতে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করলে পুরো এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিতাস গ্যাসের জরুরি দল তাৎক্ষণিকভাবে পুরো বন্দর এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ফলে সম্ভাব্য ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে এলাকাটি রক্ষা পেলেও টানা চার দিন তীব্র গ্যাসহীন দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার পরিবার ও গ্রাহক।
পরবর্তীতে তিতাস গ্যাসের ‘জোবিঅ-বন্দর’ এবং জরুরি কারিগরি দল যৌথভাবে টানা চার দিন নিরলস পরিশ্রম করে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬টি রাইজার ও পাইপলাইন পুনর্নির্মাণ ও মেরামত সম্পন্ন করে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরামতকাজ শেষে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় সচল করা হয়। মেরামত কাজ চলাকালে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক (জোবিঅ-বন্দর) প্রকৌশলী জাহিন আমীর খান, সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহ আলম রনি এবং সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলাম সরেজমিনে উপস্থিত থেকে সার্বিক তদারকি করেন।
এদিকে, চরম সমন্বয়হীনতার কারণে সরকারি সম্পদের অপচয় এবং পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তিতাস কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপের প্রশংসা করার পাশাপাশি, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এমন অসচেতন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

