বিশেষ অভিযান
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি অবৈধ ডাবল বার্নারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। একই সাথে একটি অবৈধ চুন ফ্যাক্টরির সংযোগ উৎসে বিচ্ছিন্ন (কিলিং) করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর, ২০২৬) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ সুহা তাবিল (সহকারী কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ)-এর নেতৃত্বে ও জোনাল বিক্রয় অফিস-বন্দর-এর ব্যবস্থাপনায় এ মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দর উপজেলার জাঙ্গাল ও মালিবাগ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মোট চারটি পয়েন্টে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের বিস্তারিত চিত্র:অবৈধ চুন ফ্যাক্টরি উচ্ছেদ (জাঙ্গাল বাসস্ট্যান্ড): প্রথম পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ চুন ফ্যাক্টরির সংযোগ চিহ্নিত করা হয়। কারখানাটি পরিদর্শনের সময় চালু অবস্থায় পাওয়া না গেলেও মূল সোর্স লাইনের সাথে অবৈধ ২ ইঞ্চি ভাল্ব দিয়ে এটি যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে ২ ইঞ্চি ব্যাসের ৪ ফুট এমএস পাইপলাইন ও ১টি ভাল্ব অপসারণ করে সংযোগটি উৎসে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন (কিলিং) করা হয়।
জাঙ্গাল মেইন রোড এলাকার আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন: জাঙ্গাল বাসস্ট্যান্ডের মেইন রোড সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ হাজারটি ডাবল বার্নারের অবৈধ আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, যার আনুমানিক গ্যাস লোড ছিল প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২১ হাজার ঘনফুট। সেখান থেকে ৬০ ফুট হোস পাইপ (১ ইঞ্চি), ১০ ফুট এমএস পাইপ ও ১টি ভাল্ব বাজেয়াপ্ত করা হয়।জাঙ্গাল বন্দর খাল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা: জাঙ্গাল বন্দর খাল ব্রিজ এলাকায় পরিচালিত অভিযানে আরও ১ হাজারটি অবৈধ ডাবল বার্নারের আবাসিক সংযোগের বিতরণ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৩ ইঞ্চি ব্যাসের ১৭০ ফুট এমএস পাইপ, ৪ ইঞ্চি ব্যাসের ১০০ ফুট প্লাস্টিক কেসিং পাইপ এবং ৩টি রেগুলেটর অপসারণ ও উৎসে কিলিং সম্পন্ন করা হয়।মালিবাগ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা: চতুর্থ পয়েন্টে মালিবাগ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন 'এস এইচ ক্যাসেল অ্যান্ড রিসোর্ট'-এর পাশে অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রায় ৫০০টি ডাবল বার্নারের অবৈধ সংযোগ (যার আনুমানিক লোড প্রতি ঘণ্টায় ১০ হাজার ৫০০ ঘনফুট) বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং ১ ইঞ্চি ব্যাসের ১৫০ ফুট এমএস পাইপলাইন উচ্ছেদ করা হয়।
সব মিলিয়ে অভিযানে প্রতি ঘণ্টায় মোট ৫২ হাজার ৫০০ ঘনফুট লোডের প্রায় ২ হাজার ৫০০টি অবৈধ ডাবল বার্নার এবং একটি বাণিজ্যিক চুন ফ্যাক্টরির লাইন সোর্স থেকে স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সম্পদ গ্যাসের অপচয় রোধ ও সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে এ ধরণের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

