বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

|

জ্যৈষ্ঠ ২৮ ১৪৩১

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

হাবিবকে বিজয়ী করতে একাট্টা আওয়ামীলীগ হাবিবেই আস্থা, মাঠে নেই রানু

রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন গণসংযোগ ও ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২২:৫২, ২০ মে ২০২৪

রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন গণসংযোগ ও ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা

ফাইল ছবি

দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২১ মে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে পুরো উপজেলায় একটি উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রার্থীতা যাচাই বাছাইয়ের শেষে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হয়েছে। এবারের নির্বাচনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন মোট দুইজন। উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব দোয়াত কলম প্রতীকে ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভুইয়া রানু আনারস প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এদিকে, অনলাইন ক্যাসিনো ডানখ্যাত সেলিম প্রধানের মনোয়ন যাচাই বাছাইয়ের সময় বাতিল করেন নির্বাচন কমিশন। পরে তিনি এ ব্যাপারে সেলিম প্রধান হাইকোর্টে রিট করেও তার প্রার্থীতা ফিরে পান নি। এদিকে, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মিজানুর রহমান মিজান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফেরদৌসী আক্তার বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়া সবার নজর থাকবে কে হবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থী থাকলেও হাবিবুর রহমান হাবিবেই আস্থা রাখতে চান স্থানীয় ভোটরা। গত ১ সপ্তাহ উপজেলার রূপসী, গর্ন্ধবপুর, কাহিনা, কাজীপাড়া, বরপা, চনপাড়া, পূর্বগ্রাম, মুড়াপাড়া, ইছাখালী, ইছাপুরাসহ বেশকয়েকটি এলাকায় ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা যায়। উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হাবিবুর রহমান হাবিবকে বিজয়ী করতে একাট্টা হয়েছে। প্রতিদিনই উপজেলার প্রতিটি এলাকায় হাবিবের পক্ষে প্রচারণা ও গণসংযোগ চালানো হচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে চারদিক। এদিকে, আবু হোসেন ভুইয়া রানু বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালালেও তার প্রচারণা তেমন চোখে পড়েনি বলে জানান স্থানীয় ভোটাররা। হাবিবের দোয়াত কলম প্রতীকের ব্যানার ফেস্টুন ও ব্যানার সারা উপজেলা ছড়িয়ে দেওয়া হলেও এখনো চোখে পড়েনি আবু হোসেন ভুইয়ার রানুর আনারস প্রতীকের ব্যানার ফেস্টুন।  

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় রূপগঞ্জ উপজেলাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে এক হাজারের অধিক শিল্প কারখানা রয়েছে। পূর্বাচল উপশহর এ উপজেলায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এবারের রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও দুইজন প্রত্যাহার করে। এর মাঝে ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) এর ছেলে গোলাম মর্তুজা পাপ্পা। তিনি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে গোলাম মর্তুজা পাপ্পা তার মনোনপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ভোটের মাঠে হাবিবুর রহমান হাবিব তার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী আবু হোসেন ভুইয়া রানু চেয়ে এগিয়ে থাকবে। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে হাবিবুর রহমান হাবিব ও তার সমর্থিত নেতাকর্মীরা দোয়াত কলম মার্কায় ভোট দিতে বিভিন্নভাবে প্রচার প্রচারণা ও মিছিল ও গণ সংযোগ করতে দেখা গেছে। এছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রায় সকল নেতাকর্মীই হাবিবের সমর্থনে রয়েছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে, আনারস প্রতীক নির্বাচনে অংশ নেওয়া আবু হোসেন ভুইয়া রানু তিনবার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কারণে তিনিও তার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীকে ছাড় দিতে নারাজ। তিনিও তার সমর্থক দিয়ে প্রচার প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। তার প্রচার প্রচারণা তেমন চোখে পড়ছে। তিনি শুধু তার নিজ রূপগঞ্জ ইউনিয়নেই প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

উত্তর রূপসী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আক্তার মিয়া জানান, আমরা আমাদের নানা রকম সুবিধা-অসুবিধার কথা আমরা যেভাবে আমাদের এমপি গাজী সাহেবের কাছে সহজে বলতে পারি তেমনি আমরা তা হাবিব ভাইয়ের কাছেও বলতে পারি। তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে থাকাকালীন আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য গুরুত্ব ভূমিকা পালন করেছেন। হাবিব ভাই আমাদের এলাকার মানুষের বিপদে আপদে সবসময় এগিয়ে আসেন। এছাড়া করোনাকালীন সময়ও তিনি গাজী সাহেবের নির্দেশনায় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আমাদের এলাকার আরো উন্নয়ন হবে বলে আমরা মনে করি।

চনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্বাস মিয়া বলেন, হাবিব ভাই সবসময় আমাগো খোজ খবর নেয়। তিনি আমাদের এমপি গাজী সাহেবের অত্যন্ত বিশ^স্থ। তাকে কখনো কোন মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, কিশোরগ্যাংকের আশ্রয় প্রশ্রয় দিতে দেখিনি। এছাড়া তিনি সবসময় তৃণমূল নেতাকর্মীদের যেকোন বিপদের পাশে থাকার চেষ্টা করেন।

হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ২০০৮ সালে রূপগঞ্জে টিনের ঘর, বেড়া ঘর ছাড়া আর কিছুই ছিল না। বিদ্যুৎ ও পানি না থাকায় এলাকাটি শিল্প-কারখানা তৈরির উপযোগী ছিল না। গাজী সাহেব এ এলাকার এমপি হওয়ার পর পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট। প্রথমে যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেন। এতে এখানে অনেক শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। এতে এলাকার তরুণ-যুবকদের পাশাপাশি অন্য অঞ্চলের অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আমি গোলাম দস্তগীর গাজীর নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদকে আরো সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে মাদক ও কিশোরগ্যাং রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আবু হোসেন ভুইয়ার রানু বলেন, আমি পরপর তিনবার রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময় আমার ইউনিয়নবাসীর জন্য কাজ করে গেছি। আমি যদি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই রূপগঞ্জবাসীর জন্য কিছু করতে চাই। রূপগঞ্জে এখনো অনেক রাস্তাঘাটের বেহালদশা হয়ে আছে সেগুলো সংস্কার ও নির্মাণ করতে চাই। এছাড়া মাদক ও সন্ত্রাসরোধে কাজ করতে চাই।