ফাইল ছবি
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে অতিরিক্ত ৫ টাকা ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী ১ টাকাও অতিরিক্ত বাস ভাড়া দিবে না এবং জেলা প্রশাসককেই সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করতে হবে।
তারিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের দুরত্ব ১৮ কিলোমিটার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দুরত্ব দেখিয়ে বাস মালিকরা বেশি ভাড়া আদায় করছে। গত আওয়ামীলীগের সময়ে যে সিণ্ডিকেট পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করতো তারা এখনো বহাল আছে। গত সিণ্ডিকেটের প্রধান ব্যাক্তিরা পালিয়েছে, তাদের স্থলে জায়গা করে নিয়েছে বিএনপির সিণ্ডিকেট। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান ঢাকা নারায়ণগঞ্জ রুটে যৌক্তিক বাস ভাড়া নির্ধারণ করে ৫০ টাকা। তারপর পূর্ববর্তী জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বাস মালিকদের সিন্ডিকেটের কাছে নতি স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ রুটে ৫ টাকা বাস ভাড়া বৃদ্ধি করে। এবং নারায়ণগঞ্জবাসীর অসন্তোষ এবং চাপে তিনি বর্ধিত বাস ভাড়া প্রত্যাহার করেন।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারী দায়িত্ব গ্রহণের পরে ২৩ এপ্রিল জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারনে কিলোমিটার প্রতি বাস ভাড়া ১১ পয়সা বৃদ্ধি করে। কিন্তু বাস মালিকদের সিন্ডিকেট সরকারের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়া নির্ধারণ করে ৫৫ টাকা। যা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে প্রায় ৩ টাকা বেশি। যা এতোদিন বহাল ছিল। গত ২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে। আমরা দেখলাম, সরকারের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণার পর থেকে নারায়ণগঞ্জের বাস মালিকরা সরকারী প্রজ্ঞাপন ছাড়াই যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে উৎসব-বন্ধন বাসে ৫ টাকা এবং এসি বাসে ১০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। আজ ২২ সেপ্টেম্বর সরকার কিলোমিটার প্রতি বাস ভাড়া ১৭ পয়সা বৃদ্ধি করে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়া বৃদ্ধি পাবার কথা ৩ টাকা। সুতরাং বর্তমানে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে নারায়ণগঞ্জ রুটে ১ টাকাও বাস ভাড়া বৃদ্ধি পাবার কোন যৌক্তিক কারণ নেই। কেননা বাস মালিকরা গত ২৩ এপ্রিল থেকেই ৩ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির সভাপতি হলো জেলা প্রশাসক। বাস মালিকরা যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে যে অতিরিক্ত ৫ টাকা ভাড়া আদায় করছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অন্যায়। এর দায়-দায়িত্ব জেলা প্রশাসক কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের দাবি, অবিলম্বে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ রুটে অতিরিক্ত ভাড়া ৫ টাকা প্রত্যাহার করতে হবে। এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য অসাধু বাস মালিক সিণ্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জবাসী সরকার নির্ধারিত বাস ভাড়ার চেয়ে ১ পয়সাও বেশি ভাড়া দিবে না।

