ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের তাজেক প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়ের এক দারোয়ানের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ শ্রেণির ১১ বছরের এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। পরে সন্ধ্যায় অভিযুক্ত দারোয়ান আবুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগের পর সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সন্ধ্যায় অভিযুক্ত দারোয়ান আবুল হোসেনকে থানায় নিয়ে আসেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে বিদ্যালয়ের ভেতরে স্থানীবাসীন্দারা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই ছাত্রী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ, এর আগেও ওই দারোয়ান তাকে যৌন নিপীড়ন করেছেন। তবে বিষয়টি সে বাড়িতে কাউকে জানায়নি। আজকে দুপুরে একজন অভিভাবক ঘটনাটি দেখতে পান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাই বলেন, “আমার বোন কিছুটা অ্যাবনরমাল। এর আগেও তার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলেও সে কাউকে জানায়নি। বিষয়টি আমরা আজ জানার পর শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ জানাই। তারা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সময় আরও কয়েকজন অভিভাবক তাদের সন্তানদের সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
তিনি আরও বলেন, “পরে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা আসে। তারা দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করেন। বাইরে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে। কেউ বের হতে পারেনি। পরে সন্ধ্যায় ওই দারোয়ানকে পুলিশ নিয়ে যায়।”
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে প্রধান শিক্ষক জামাত নেতা মোহাম্মদ রবিন হুসেন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের অভিযোগ, তিনি জামাত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের এনে শিক্ষার্থীর পরিবারের লোকজনকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রবিন হুসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর দেয়নি। এদিকে ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, “স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আবুল হোসেন নামের একজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। স্কুলছাত্রীর অভিভাবকরা মামলা দিলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।” ওসি আরও বলেন, “এই স্কুলে আবুল হোসেনের স্ত্রী চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। তারা সপরিবারে ওই স্কুলে থাকে।”

